Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জরুরি: আমির খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ এএম

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রথাগতভাবে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো নিজেদের মতো করে কাজ করে আসছে। তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল না। বর্তমান সরকারের মূল নীতি হচ্ছে- সরকার পরিচালনা ও অর্থনীতি পরিচালনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা।

তিনি বলেন, সরকার বন্যার তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করে। তবে সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের একার পক্ষে কঠিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও স্যানিটেশনসহ বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজগুলো সম্পন্ন করতে- সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। সেবা কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে যুক্ত করলে দক্ষতা বাড়ে এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।

রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস অডিটোরিয়ামে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্পের’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়নে ব্র্যাকের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সেবা প্রদানের কার্যক্রমগুলোকে সরকার একটি অংশীদারিত্বের জায়গায় নিয়ে গেছে। এটি শুধু কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার বিষয় নয়; কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে ‘ত্রাণ ও সহায়তা’ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।  সরকারি উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনেক ক্ষতি ও অপচয় হয়। এর পেছনে দুর্নীতি, অপচয় ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব দায়ী। এ কারণে সরকারের প্রতিটি কাজে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ চালু করেছি। সেখানে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব রয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছেন এবং আমরা যৌথভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এটিকে আমি এই অংশীদারিত্বের সাফল্য হিসেবে দেখছি।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পেও মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই কম। এ কার্যক্রম কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বিভিন্ন মাধ্যমে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যবস্থাটি একদিকে দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে নজরদারির ভূমিকা পালন করছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরুপ কুমার চৌধুরী, এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি, নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী।

১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মাধ্যমে এইচএসবিসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, বিদ্যালয় মেরামত এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৮নং ওয়ার্ড. চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া, বাঁশখালী উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

/এএস