Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

আইফোন কিনতে দেড় বছরের শিশুকে লাখ টাকায় বিক্রি!

জেলা প্রতিনিধি

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তার দেড় বছরের শিশুপুত্রের নাম মুসা।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শনিবার সকাল আটটার দিকে মারুফ তার মাকে নাতি মুসাকে সাজিয়ে দিতে বলেন। শিশুটিকে নিয়ে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বাবা-ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিবারের দাবি, তাকে ফোন করে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে শিশুটির বিষয়ে কিছু স্বীকার করেননি মারুফ।

পরিবারের ভাষ্য, পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ স্বীকার করেন, আইফোন কেনার জন্য তিনি তার শিশুপুত্র মুসাকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় লিখিতভাবে বিক্রি করেছেন। শিশুটিকে বিক্রির টাকা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে পুরোনো আইফোন দিয়ে নতুন আইফোন কেনেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, ‘শনিবার সকালে মারুফ আমাকে বলে, মা, তোমার নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দাও। আমি ওকে নিয়ে বাজারে একটু ঘুরতে যাব। পরে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ও নাতির কোনো খোঁজ পাইনি। পরে জানতে পারি, আইফোন কেনার জন্য এক লাখ টাকার বিনিময়ে মুসাকে বিক্রি করেছে বলে মারুফ স্বীকার করেছে। আমি আমার নাতিকে ফিরে পেতে চাই।’

আরও পড়ুন

রান্নার পর মাংসের রঙ সবুজ হওয়ার কারণ জানাল নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

শিশুটিকে কেনার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন মুঠোফোনে বলেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তার শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে শিশুটিকে শ্বশুরের বাড়িতে দিয়ে আসেন বলেও জানান ইমরান।

শিশুটির দাদি আরও জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ ঢাকার সাভার থেকে বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাদের ঘরে মুসার জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থেকে ঢাকায় চলে যান। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মারুফ ও তার স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

প্রতিনিধি/এসএস