জেলা প্রতিনিধি
৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অধিকতর তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেবে এবং অল্প সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। মাদকাসক্ত হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই ওই বাড়িতে গিয়ে গণপতি চক্রবর্তীকে বিরক্ত করতেন। তাদের বাধা দিতে গিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমান সরকার এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনায় সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং এর বিচারকাজও শেষ হয়েছে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই এ ঘটনায় আর সন্দেহের কিছু নেই।
এ সময় রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ও রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করা আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় ও বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা দুজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই ঘটনায় দুজন সাক্ষীও আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস