Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর অভিযোগ, থানায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় আপস!

জেলা প্রতিনিধি

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মোবাইল ফোন ও ই-মেইল হ্যাক করে স্বামী-স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে আটক এক যুবককে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। থানায় বসেই দুই পক্ষের মধ্যে এ আপস হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামের মধ্যস্থতার অভিযোগও রয়েছে। তবে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তাগাছা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনডাঙ্গারচর এলাকার মো. আব্দুল্লাহর (২৪) মোবাইল ফোন ও ই-মেইল হ্যাক করে তার ও তার স্ত্রীর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় গত ২৭ আগস্ট মুক্তাগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আব্দুল্লাহ।

জিডির পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ আগস্ট রাতে ত্রিশাল থানা-পুলিশের সহযোগিতায় ত্রিশাল উপজেলার বিয়ার উত্তরপাড়া এলাকা থেকে আরমান আহম্মেদ (২১) নামে এক যুবককে আটক করে মুক্তাগাছা থানা-পুলিশ।

অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর পুলিশ সদস্যরা আরমানের পরিবারের সদস্যদের টাকা-পয়সা নিয়ে ত্রিশাল থানায় আসতে বলেন। বিষয়টি সদর ও মুক্তাগাছা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিলের কাছে পৌঁছালে তিনি ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি জেনে যাওয়ায় ওই রাতে কোনো সমঝোতা করা সম্ভব নয় জানিয়ে পরিবারটিকে পরদিন সকালে মুক্তাগাছা থানায় আসতে বলা হয়।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উভয় পক্ষ থানায় উপস্থিত হলে ওসি কামরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার চুক্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আটক আরমানের ভাই আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, ‘ওসি নিজেই পুরো বিষয়টি ডিল করেছেন। টাকা নিয়ে থানার ভেতরেই বিষয়টির সমাধান করে দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, লেনদেনের টাকা থেকে একটি অংশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন অভিযোগকারী মো. আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, পুলিশের মধ্যস্থতায় লিখিত মুচলেকার মাধ্যমে তারা আপস করেছেন। তবে তিনি কত টাকা পেয়েছেন জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আরও পড়ুন

বগুড়ায় ড্রেন খুঁড়তেই মিলল ৩৪০ রাউন্ড গুলি

মীমাংসাপত্রে দেখা যায়, বিবাদী আরমান ভবিষ্যতে ওই ছবি প্রচার করবেন না বলে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাদী তার করা জিডি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছেন।

সদর ও মুক্তাগাছা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, ‘অন্য একটি মামলার বিষয়ে খোঁজ নিতে মুক্তাগাছা থানায় গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনেছি। বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রোববার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আব্দুল্লাহ নামে আসামির কোনো ভাই নেই। তার সঙ্গে একজন এসেছিলেন, তার নাম আব্দুল্লাহ।’ তবে অভিযোগের বিষয়ে একাধিক তথ্য-প্রমাণের কথা জানানো হলে তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় অবশ্যই মামলা হওয়া দরকার ছিল। ওসি বিষয়টি আমার কাছে সহজভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। আসামিকে পুনরায় গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস