জেলা প্রতিনিধি
৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ এএম
সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রাম থেকে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে এমরান হোসেন (২৩) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এমরান গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে। ঘরের বারান্দার বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি পেছানো ছিল তার মরহেদ। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন,‘আমি ঘটনাস্থলে আছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’
এমরান হোসেনের ছোট ভাই তুহিন হোসেন মুঠোফোনে জানান, তারা দুই ভাই, এক বোন। বোনের বিয়ে হয়েছে। দুই ভাই রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। ১৫ দিন আগে বেড়াজালী বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়ার একটি পানি তোড়া মোটর ও কিছু ইলেক্ট্রিকের তার ছুরি হয়। এরপর পর বিষয়টি চার মিয়ার ছেলে আবুল ফজল তাদের জানায়। পরে আবুল ফজল মোটর চুরি অভিযোগ তোলেন এমরান হোসেন ও একই গ্রামের আরেক যুবক নিলু মিয়ার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সর্বশেষ শুক্রবার রাতে বেড়াজালী বাজারে স্থানীয় গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি)চেয়ারম্যান মো. শওকত আলীর অফিসের সালিশ হয়।
এমরান হোসেনর বাবা আবদুল হাসিমের অভিযোগ, সালিশে যাদের সাক্ষী মানা হয়েছিল তারা বলেছে চুরি বিষয়ে কোনো কিছু জানেন না। কিন্তু চেয়ারম্যান ও চান মিয়া মিলে তার ছেলের বিরুদ্ধে চুরি দায় চাপিয়ে দেন। এ সময় তার স্ত্রী সাহার বেগম কথা বলতে চাইলে চেয়ারম্যান আমাদের হুমকি-ধমকি দেন এবং মারধর করার চেষ্টা করেন। পরে সালিশে জানিয়ে দেওয়া হয় সোমবারের মধ্যে চুরি যাওয়া মোটর ফেরত দিতে হবে। না হলে তাদের চুরির অভিযোগে পুলিশে দেওয়া হবে। এমরান সালিশে নিজের এবং মা-বাবার অপমান সইতে পারেনি। রাতে পরিবারের সবাই থেকে অনেক বুঝিয়েছেন। এরপর সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন ঘরের বারান্দায় রশিতে তার লাশ ঝুলছে।
আবদুল হাসিন বলেন,‘এমরান আমার সোনার ছেলে। কাজকাম করে খায়। কেউ থাকে কোনোদিন অন্যায় কাজে পায়নি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ তোলা হয়েছে। চেয়ারম্যান সালিশে আমরা সবাইরে অপমান করছে। এর লাগিই ছেলেটা মরছে। আমি বিচার চাই।’
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জানান, সালিতে এমরান কিংবা তার পরিবারের কাউকে তিনি হুমকি-ধমকি দেননি। তাদের আত্মীয়দের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা আছে। এমরান প্রচুর ঋণগ্রস্ত। সোমবারে তাদের পরিবারের ওই ঝামেলা নিয়ে বসার কথা ছিল। বলা হয়েছিল, যদি এর মধ্যে মোটর পাওয়া যায়, সেদিন যেন নিয়ে আসা হয়। এর বেশি কিছু বলা হয়নি।
শওকত আলী বলেন,‘হাসিম কেমন মানুষ এলাকার সবাই জানে। এমন কোনো অপকর্ম নাই সে করে না। এখন কী কারণে ছেলে মরছে, আর নানা কথা বলতে শুরু করেছে।’
প্রতিনিধি/এএম