Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সবকিছু বিবেচনা করে ‘মক্কা চুক্তি’র বিষয়ে সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি

২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:১২ পিএম

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হওয়া ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কি না, সবকিছু বিবেচনা করে সরকার সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

কয়েক বছর ধরে নানা সংকট চলছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এই পরিস্থিতিতে আরো জটিল করে তুলেছে।

এমন উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আগস্টের শুরুতে তিন দেশের মধ্যে এই চুক্তি সই হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সামনে আসছে। গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এর জবাব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে এই জোটে বা চুক্তি যেতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘আমরা সব ধরণের ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হয়। ভারতের নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’

শনিবার ঝিনাইদহে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় আইনমন্ত্রীকে। জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সবকিছু বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, বাংলাদেশও তার নিজস্ব নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।’

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট কি না, সেটি বড় বিষয় নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ই-জুডিশিয়ারি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/এমআর