জেলা প্রতিনিধি
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ঐতিহ্যবাহী ‘রেলের শহর’ রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জমির ওপর একটি আধুনিক ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণের বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে রাজবাড়ী রেলের মাঠ আধুনিকায়ন এবং পুরনো হুসনেবাগ সিনেমা হলের স্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ কালচারাল কমপ্লেক্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজবাড়ী রেলস্টেশন, রেলের বিভিন্ন জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।
রেল সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী শহরটি শুরু থেকেই রেলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে যুক্ত। এখানে রেলওয়ের প্রচুর জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। তবে সরকারের মূল অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ী রেলওয়ে ক্যারেজ ওয়ার্কশপ নির্মাণ।
তিনি বলেন, ১০৫ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত এই ক্যারেজ ওয়ার্কশপটির ফিজিবিলিটি স্টাডি (সম্ভাব্যতা যাচাই) ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি বিশদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, এই মেগা প্রকল্পে আমরা বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। চীনের সাথে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর চীন সফরকালে সেখানকার বিনিয়োগকারীদের সাথে বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন।
সচিব বলেন, রেলের মাঠে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলের মালিকানা ও শর্ত অক্ষুণ্ন রেখেই এই উন্নয়ন কাজ হবে। এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য (রাজবাড়ী-১) এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ইতোমধ্যে সমন্বয় ও আলোচনা হয়েছে।
এছাড়া শহরের ঐতিহাসিক হুসনেবাগ সিনেমা হল স্থান পরিদর্শন প্রসঙ্গে সচিব জানান, রাজবাড়ীতে শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট কমপ্যাক্ট জায়গা নেই। তাই সেই স্থানে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালচারাল কমপ্লেক্স’ নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে।
রেলের জায়গায় গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করেন, বিদ্যমান স্কুল বা প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগুলো অক্ষত রেখে রেলের অব্যবহৃত কিংবা কম ব্যবহৃত জমি কীভাবে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তবে যে-কোনো সিদ্ধান্তে রেলের ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয়তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং রাজবাড়ীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এজে