Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পাশাপাশি কবরে শায়িত গোন্ডগোহালী গ্রামের চারজন

জেলা প্রতিনিধি

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

সৌদি আরবের আগুনে পড়ে নওগাঁর নিহত সাতজনের মরদেহ দেশে এসেছে। মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল তিনটায় গোন্ডগোহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের এক সঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলোকে নেওয়া হয় গ্রামটির কবরস্থানে। 

লাশ আসবে দেখে আগে থেকেই খুড়ে রাখা হয়েছিলো পাশাপাশি চারটি কবর। কবরস্থানের এক পাশে দুই ভাই মোহন ও সুমনের কবর আর আরেক পাশে একই গ্রামের বাসিন্দা কলিমউদ্দিন এবং রুবেল হোসেনের কবর। তারা সবাই সৌদি আরবের সোফা তৈরির কারখানায় এক সঙ্গেই কাজ করতেন। গ্রামে একসঙ্গে এতো লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো গোন্ডগোহালীবাসী। 

গোন্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, ৪৭ বছরের জীবনে কখনো এতগুলো লাশ একসাথে দাফন করতে দেখিনি। গ্রাম থেকে এক সঙ্গে চারজনের বিদাই সত্যি ই আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। আমরা চাইনা এমন কোন ঘটনা কোন গ্রামে ঘটুক। 

গ্রামটির আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনা জানার পর থেকেই আমাদের খাওয়া ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে না। আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না ছেলেগুলো আমাদেরকে রেখে এভাবে চলে গেছে। পরিবারগুলো একা হয়ে গেলো। 

এর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টায় আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে সম্মিলিত জানাজা শেষে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয় পরিবারগুলোর মাঝে। এরপর পরিবারের সদস্য এবং স্বজনরা মরদেহগুলো নিয়ে যান নিজ নিজ গ্রামে। 

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত ১৬ বাংলাদেশী। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পরিচয় সনাক্ত হওয়া নয় জনের মরদেহ গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে আসে। দেশে আসা নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়িই নওগাঁর আত্রাই উপজেলাতে। দেশে মরদেহ আসায় আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন, আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো: ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং উপজেলার পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

প্রতিনিধি/ এজে