জেলা প্রতিনিধি
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিষধর সাপের কামড়ে সাগরিকা (২৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় ওঝার কাছে ঝাড়ফুঁক করানোর কারণে চিকিৎসা পেতে দেরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহত সাগরিকা দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ঠোটার পাড়া গ্রামের নূরে আলম জিকুর স্ত্রী ও জামাল উদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বাড়ির বাইরে টয়লেটে যাওয়ার সময় সাগরিকাকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁক করানোর কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে সময়ক্ষেপণ হয়।
পরে রাত আড়াইটার দিকে সাগরিকাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, রাত আড়াইটার দিকে সাগরিকা নামে এক নারীকে সাপে কাটা অবস্থায় তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
তিনি বলেন, দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনাম মজুত রয়েছে। সাপে কাটার পর ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সাপের কামড়ে সাগরিকা নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে যায়। পরে তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চিকিৎসক ও পুলিশ সাপে কাটার ঘটনায় ঝাড়ফুঁক বা ওঝার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস