জেলা প্রতিনিধি
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৬ এএম
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার বিহারী লাল মিত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে টেনেহিঁচড়ে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নামিয়ে আনার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আতঙ্কে ওই শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রহমত ইসলাম শৌচাগার থেকে ফেরার পথে বিএসসি শিক্ষক শাহ আলম তাঁকে বাইরে যাওয়ার অজুহাতে মারধর করেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষক রহমতের কলার ধরে মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচতলায় নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে আঘাত ও আতঙ্কে রহমত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
ঘটনার খবর সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে অভিযুক্ত শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দ্রুত বিদ্যালয়ে যান। পরে শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। আলোচনার পর শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে কর্তৃপক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।
সমঝোতা অনুযায়ী, আহত শিক্ষার্থী রহমতের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাঁকে নতুন পোশাক দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাঁর ফরম পূরণসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ প্রধান শিক্ষক বহন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসহ পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বহন করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এআর