Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি

২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্ত্রী কহিনুর বেগমকে হত্যার দায়ে লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লুকানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফরিদপুরের বিশেষ দায়রা জজ ও বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় দেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দার শসা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে লিটন মিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৬ বছর আগে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কহিনুরকে নির্যাতন করতেন লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে কহিনুরকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। এরপর কহিনুর ও তার সন্তানদের বাড়ি থেকে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়। বাড়ি না ছাড়লে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।

২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে কহিনুর মেয়েকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাইকে জানায়। পরে ভোরে স্বজনেরা লিটনের বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরের উত্তর পাড়ে কহিনুরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত লিটন মিয়াকে স্ত্রী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি আজিজুর রহমান পিকু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

প্রতিনিধি/ এজে