জেলা প্রতিনিধি
২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর সুরতহাল করতে গিয়ে পুলিশের এসআইসহ দুজনের ওপর হামলার ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে লাম ও ফারহান দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিবকে। সন্ধ্যায় লামের বাড়িতে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন তারা। পরে ফারহানের মরদেহ জানাজার জন্য চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার এলাকার ঈদগা মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে ফারহানের মরদেহেরও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন তারা। পরে লামের মরদেহও ওই মাঠে নেওয়া হলে সেখানে দুই শিশুর জানাজা হয়।
জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই শিশুর মরদেহ অভিভাবকদের কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তর এবং বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে অবহিত করার প্রস্তাব দেন এসআই আবুল বাশার। এতে সেখানে উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। এ সময় অভিযুক্তরা দোকানটি ঘিরে তাদের গালিগালাজ করতে থাকেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে পুলিশ সদস্যরা দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক আসামি বাঁশের লাঠি দিয়ে এসআই আবুল বাশারের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য আসামিরা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও রড দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে থানা থেকে এসআই এমদাদুল হকসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন। আহত এসআই আবুল বাশারকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দুই শিশুর জানাজার সময় পুলিশ সদস্যরা কাফনের কাপড় সরিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির চেষ্টা করলে উপস্থিত লোকজন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের প্রথমে তর্কাতর্কি হয়। পরে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার পর এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব দায়িত্বে গাফিলতি কারণ দেখিয়ে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, বুধবার রাতেই মামলাটি রেকর্ড করা হয়। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযানে রয়েছে।
প্রতিনিধি/এলএ