Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

রংপুরে ৪ খুন: জড়িতদের বিচার চেয়ে সুজনের মানববন্ধন

জেলা প্রতিনিধি

২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

রংপুর নগরী মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এবং সমাবেশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে নগরীর রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসুচিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারসহ আরও কয়েকটি সংগঠন যোগ দেয়। 

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- মহানগর সুজনের সভাপতি জোবায়দুল ইসলাম বুলেট, জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেনজু, স্বর্ণ নারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুশ্রী সাহাসহ অন্যান্য সমাজকর্মীরা।

এসময় মহানগর সুজনের সভাপতি জোবায়দুল ইসলাম বুলেট বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের ৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত, শঙ্কিত। বাংলাদেশের পুলিশ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা আমাদের নিরাপদ করতে পারছেন না। আমরা সারা বাংলাদেশের কেউ নিরাপদ নই। আমরা মনে করছি, পুলিশ সংশোধন হয়নি। তারা নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় নাগরিকরা অরক্ষিত অবস্থায় জীবন দিচ্ছে। যারা নিরাপত্তা দেওয়ার কথা তারা বাড়িতে পুলিশি পাহারায় নিরাপদে ঘুমাচ্ছে আর আমরা নিরাপদে থাকতে পারছি না এই অবস্থা চলতে পারে না। পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে, রাষ্ট্রকে নিরাপদ করতে হবে এবং নাগরিকদের নিরাপদ করতে হবে। না হলে আমাদের সকল আন্দোলন ব্যর্থ হবে।

জেলা সুজনের সভাপতি ফখরুল আনাম বেনজু বলেন, দুজন মাদকাসক্ত ছেলে এরকম একটি পরিবারকে হত্যা করতে পারে না। সেদিন বিদ্যুতের তার কেটে ফেলা হয়েছে, সেই তার শ্যামাসুন্দরী খানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ সেটি আলামত হিসেবে নেওয়া হয়নি। এছাড়াও থানার ওসি যে কথা বলেছে- সেটির সাথে কোন মিল নাই মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশানরের বক্তব্যে। এরকম অনেক মিল-অমিল বক্তব্য আমরা শুনতে পাচ্ছি। আমাদের সকল প্রকার শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে পুলিশ এই নৃশংসভাবে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে জাতির সামনে তুলে ধরবে আমরা সেটা প্রত্যাশা করি।

এসময় বক্তারা, অবিলম্বে এই অমানবিক হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ নেপথ্যে কারা জড়িত রয়েছে- তা উন্মোচনের দাবি জানান।

গত শনিবার রাতে তালাবদ্ধ বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার হয়। তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরের দিন রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। তারা এখন কারাগারে রয়েছেন।

প্রতিনিধি/এলএ