জেলা প্রতিনিধি
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
কয়েক লাখ মানুষের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুস। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের সিরিকোট দরবারের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম.জি.আ.) এর নেতৃত্বে এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৫৫তম জশনে জুলুস।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টার কিছু পর নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুস শুরু হয়। এর আগে হুজুর কেবলা সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন এবং দোয়া ও মোনাজাত করেন।
এবারের জুলুসে তার সঙ্গে রয়েছেন সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম.জি.আ.) ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ (ম.জি.আ.)।
ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে বের হয়ে জুলুসটি মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা ও লালখান বাজার হয়ে টাইগারপাসে যাবে। পরে একই পথে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা মাঠে ফিরে আসবে।
জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকেই নগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। কেউ সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে, কেউ আবার তারকা খচিত আনজুমানের পতাকা মোটরসাইকেলে ও মাথায় বেঁধে এতে অংশ নেন। জুলুস শুরুর আগেই মুরাদপুরসহ আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জুলুসকে কেন্দ্র করে সবুজ সাজে সেজেছে বন্দরনগরী। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়কদ্বীপ ও সড়ক বিভাজকে তৈরি করা হয়েছে বড় বড় তোরণ। শোভা পাচ্ছে আনজুমানের পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানার। বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা।
বৃহৎ এ আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। পাশাপাশি জুলুসের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় আনজুমানের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন। জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, জশনে জুলুসের মতো বড় সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের বড় দায়িত্ব। শৃঙ্খলা ও সততার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
জুলুসকে কেন্দ্র করে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টদের মিলনমেলা বসেছে। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মাদরাসাসহ আনজুমান পরিচালিত তিন শতাধিক মাদরাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সিলসিলার অনুসারী ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি কৌতূহলী মানুষেরও সমাগম হয়েছে।
জুলুসকে ঘিরে বসেছে অস্থায়ী মেলাও। সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন ভাসমান দোকানে দেশি-বিদেশি আতর, টুপি, তসবিহ, গামছা ও পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন মোড়ে ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে জুলুসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য শরবত ও শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনা মূল্যে এসব খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (র.) এর দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে প্রথম জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়। এরপর প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এ আয়োজন হয়ে আসছে।
প্রতিনিধি/এসএস