Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মায়ের নামের মিল, ময়মনসিংহ মেডিকেলে দুই নবজাতক বদল

জেলা প্রতিনিধি

২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মায়ের নামের মিল থাকায় ভুল করে এক পরিবারের নবজাতককে অন্য পরিবারের কাছে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে রাতেই শিশুটিকে ফিরিয়ে আনা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে দুই পরিবারের কাছে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জগন্নাথবাড়ি এলাকার মাসুদ ইসলাম ও নাদিরা দম্পতির কন্যাসন্তান জন্ম নেয় গত বৃহস্পতিবার। জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে শনিবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল গ্রামের কৃষক আবু রায়হান ও নাদিরা দম্পতির কন্যাসন্তানেরও জন্ম হয় গত বৃহস্পতিবার। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পর শিশুটির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাকেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

গৌরীপুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিশুটির মা এনআইসিইউতে গিয়ে সন্তানকে দুধ পান করান। পরে শিশুটিকে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এনআইসিইউতে ভর্তির সময় দেওয়া টোকেন পেতে দেরি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শিশুটিকে নিতে যান।

এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের একটি নবজাতক হস্তান্তরের চেষ্টা করেন। শিশুটিকে দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। আবু রায়হান বলেন, ‘এটি আমাদের সন্তান নয়। শিশুটির চেহারার সঙ্গেও আমাদের সন্তানের মিল নেই।’ এরপর তারা শিশুটির পরিচয় যাচাই করতে বলেন।

পরিবারটির অভিযোগ, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যাচাই শুরু করে।

কয়েক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর জানা যায়, গৌরীপুরের পরিবারের নবজাতককে ভুল করে সরিষাবাড়ীর পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে। ততক্ষণে ওই পরিবার শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছে।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জামালপুরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। হাসপাতালের লোকজন নিজেদের উদ্যোগে রাত তিনটার দিকে নবজাতকটিকে নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসেন। এরপর মঙ্গলবার সকালে দুই পরিবারের কাছে তাদের নিজ নিজ সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

গৌরীপুরের নবজাতকের স্বজন রুহুল আমিন বলেন, ‘বাচ্চার পায়ে টোকেন থাকে। সেখানে বাবা-মায়ের নাম ও সিরিয়াল নম্বর লেখা থাকে। মায়ের নাম একই হলেও বাবার নাম আলাদা। এরপরও কীভাবে এমন ভুল হলো, সেটি আমরা জানতে চাই। এমন ঘটনা যাতে আর কারও সঙ্গে না ঘটে, সে জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জামালপুরের নবজাতকের বাবা মাসুদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সন্তান আমাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, এটিই ধরে নিয়েছিলাম। পরে রাতে হাসপাতালের লোকজন এসে শিশুটিকে নিয়ে গেছেন। আমার সন্তান আনতে দুই বোন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসপাতালে গেছেন।’

প্রতিনিধি/এসএস