জেলা প্রতিনিধি
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজন হলে দেশের যেকোনো জায়গায় গিয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলার নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাত আলী।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জিন্নাত আলী বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ চার খুনের প্রকৃত রহস্য বের করতে এবং কারা কারা জড়িত, তা জানতে প্রয়োজন হলে আলামত পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য বাংলাদেশের যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে সেখানে যাব।’
তিনি বলেন, মামলার তদন্তে এখনো নতুন কোনো মাত্রা যোগ করা সম্ভব না হলেও সে প্রক্রিয়া চলছে। ‘আগামীকাল (বুধবার) আপনারা একটি ভালো খবর পেতে পারেন,’ বলেন তিনি।
নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি রংপুরের চাঞ্চল্যকর চার খুনের তদন্তভার পেয়েছি। মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ মনে করেছে, আমাকে দায়িত্ব দিলে তদন্ত আরও ভালো হবে এবং ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। আমিও সেই আশাবাদ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ডিবির কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ফলে শুরু থেকেই মামলার বিভিন্ন বিষয় তার জানা রয়েছে। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা থানার একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তদন্তে যতটুকু অগ্রগতি করেছেন, তা তার কাছে হস্তান্তর করেছেন।
জিন্নাত আলী বলেন, ‘কাগজ-কলমে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আরও নিবিড়ভাবে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় লোকজন, গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির পরিবারের সদস্য, সাক্ষী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছি।’
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ‘এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব।’
তদন্তের বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে পরামর্শের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দায়িত্বভার পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা চেয়েছি, যাতে ভুক্তভোগী পরিবার ও দেশবাসী সঠিক বিচার পান।’
দুই আসামির জবানবন্দির বিষয়ে জিন্নাত আলী বলেন, ‘অনেক সময় জবানবন্দিতে অভিযুক্তরা নিজেদের বাঁচাতে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এ মামলায় অভিযুক্ত দুজন কেউ কাউকে বাঁচানোর জন্য জবানবন্দি দেননি। তারা দুজনই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা যতটা প্রত্যাশা করেছি, তার চেয়েও ভালো জবানবন্দি তারা দিয়েছেন।’
তবে চার হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া এই দুই আসামি ছাড়া আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
প্রতিনিধি/এসএস