Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সাড়ে ৩ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা কয়েক মাসেই অচল, ঝুঁকিতে নিরাপত্তা

জেলা প্রতিনিধি

২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌর শহরের নিরাপত্তা জোরদার, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য পৌরসভার অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছিল ৪০টি সিসি ক্যামেরা। বর্তমানে সবগুলো অচল হয়ে পড়ে আছে। এতে পৌরসভার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া উদ্যোগের কার্যকারিতা ও ক্যামেরার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য তৎকালীন পৌর প্রশাসক ৪০টি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেন। এ কাজের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স বাজারের আশিকুর রহমান সুরুজকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজের দায়িত্ব দেয়। পরে তিনি গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ফাতেমা কম্পিউটার নামের একটি দোকান থেকে ৪০টি ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করে স্থাপনের কাজ শুরু করেন। 

অভিযোগ উঠেছে, স্থাপনের কয়েক মাসের মধ্যেই ক্যামেরাগুলো বিকল হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি পৌর শহরে একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে বিষয়টি সামনে আসে। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দেখতে পান, স্থাপন করা ক্যামেরাগুলো থেকে কোনো ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। 

ভূঞাপুর পৌরসভা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ক্যামেরাগুলো অচল অবস্থায় পড়ে আছে। তদারকি করার মতো কেউ নেই। শহরের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো বিকল হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। 

2

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পটিতে Hikvision ব্র্যান্ডের ৪ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের মোট ৪০টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরার মূল্য হিসেবে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ধরা হয়েছে। এই সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যবহৃত ক্যাবলের প্রতি মিটারের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ টাকা। তবে প্রতিটি ক্যামেরার ১ বছর ওয়ারেন্টি রয়েছে বলে বিক্রেতার বিলে উল্লেখ রয়েছে। 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কিংবা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্যামেরাগুলো কেন বিকল হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

তাদের মতে, সিসি ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হতো। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত। 

এ অবস্থায় পৌরসভার অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্যামেরা স্থাপনের কাজের মান, ব্যবহৃত সরঞ্জামের গুণগত মান ও ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের পাশাপাশি দ্রুত সবগুলো ক্যামেরা সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

ভূঞাপুর পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন তালুকদার বলেন, যারা নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করেছে তারা সরকারের অর্থ নষ্ট করেছে। তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি এবং সিসি ক্যামেরা পুনরায় সংস্কার করারও দাবি জানান তিনি। 

সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পের ঠিকাদার আশিকুর রহমান সুরুজ বলেন, বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণেও সিসি ক্যামেরার চার্জারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমি শতভাগ স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেছি। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যেই কাজ সীমাবদ্ধ রাখিনি; বরং ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বরাদ্দের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মাহবুব হাসান বলেন, সিসি ক্যামেরাগুলো অচল হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। কারিগরি বা অন্য কোনো ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এএইচ