২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
সভা-সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, সংগীতচর্চা ও সামাজিক আয়োজনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নে বরগুনা পৌর শহরের সিরাজউদ্দীন সড়কে নির্মাণ শুরু হয়েছিল প্রায় ৫০০ আসনের পৌর অডিটরিয়াম বা টাউন হল।
কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বছরের পর বছর ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে ভবনটি। এখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হওয়ার বদলে ভবনটি ব্যবহৃত হচ্ছে গরু-ছাগল রাখার স্থান ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে।
বরগুনা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চে টাউন হল নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হয়নি। পরে ২০২২ সালের দিকে ভবনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনের দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসম্পূর্ণ ভবনের বিভিন্ন অংশে গরু-ছাগল রাখা হচ্ছে। নির্জন পরিবেশের সুযোগে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসে। এতে ভবনটির মূল উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি আশপাশের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খেলাঘর বরগুনা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ বলেন, টাউন হলটি সাংস্কৃতিক চর্চা ও বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হতে পারত। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে এটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পৌরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।
সুর সাকী সংগীত একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শাহিন বলেন, ভবনের বড় একটি অংশ নির্মাণ হলেও অসম্পূর্ণ কাজের কারণে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত কাজ শেষ না হলে স্থাপনাটি আরও নষ্ট হবে।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ অ্যান্ড আসিফ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মো. আবুল হোসেন খান দাবি করেন, প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হয়ে যাওয়ায় তারা কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা হলে বাকি কাজ শেষ করতে তারা প্রস্তুত।
বরগুনা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাছুম বিল্লাহ্ বলেন, নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা কাজ শেষ করেনি। ঠিকাদার ইতোমধ্যে প্রায় চার কোটি টাকা বিল নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বরগুনা পৌর প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল বলেন, সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করেই ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তবে বরাদ্দের অর্থ অন্যত্র ব্যয়ের বিষয়ে সরকারি এই কর্মকর্তা বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে কী হয়েছে, সে বিষয়ে অবগত নন।
এএইচ