জেলা প্রতিনিধি
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ঋণের চাপে হারুন অর রশিদ খালেক (৩৮) নামের এক ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের ভাষ্য, ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ-ধারদেনার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। খালেক ওই গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে।
স্বজনেরা জানান, খালেক ধান, পাট, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। কয়েক বছর ধরে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল। চলতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় তার লোকসান আরও বাড়ে। পাশাপাশি ব্যাংক, এনজিও ও স্বজনদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ-ধারদেনা ছিল কয়েক কোটি টাকা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাত একটার দিকে খালেক তার ছোট ভাই আব্দুল মালেককে ফোন করে বলেন, ‘আমার ছোয়ালডা থাকলো, তুই দেখিস।’ মালেক তার অবস্থান জানতে চাইলে খালেক বলেন, ‘ওমক (শফিউল্লাহর আমবাগান) জায়গা সকালে পাবিনি।’ এরপর মালেক, তার বাবা ও ভাবি দ্রুত শফিউল্লাহর আমবাগানে গিয়ে একটি আমগাছের ডালে খালেকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খালেকের বাবা সদর উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ব্যবসা ভালো যাচ্ছিল না। ঋণের পরিমাণও কয়েক কোটি টাকা। রাতে ছোট ছেলেকে ফোন করে ওই কথাগুলো বলেছিল। পরে আমবাগানে গিয়ে দেখি, গাছে ঝুলছে।’
খালেকের স্ত্রী মালা খাতুন বলেন, ‘এ বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকার পেঁয়াজ পচে গেছে। এ নিয়ে সে সব সময় দুশ্চিন্তা করত। সংসারে কোনো ঝগড়া-ঝামেলা ছিল না। অনেক টাকা দেনা ছিল। হয়ত সেই কারণেই এমন করেছে।’
খালেকের এক বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাকে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করিয়েছে। এভাবে অনেকের কাছ থেকেই ব্যাংক ঋণ করেছে। সব মিলিয়ে তার তিন থেকে চার কোটি টাকা দেনা ছিল।’
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঋণের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিনিধি/এসএস