জেলা প্রতিনিধি
২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বাস ও মাহিন্দ্রা চালক-শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে দ্বিতীয় দিনের মতো দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও ধর্মঘটের কারণে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস এবং সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন থ্রি-হুইলার মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা। বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও যাত্রী ওঠাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
একপর্যায়ে থ্রি-হুইলার চালকেরা বরিশালের ১৪টি অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। বরিশাল থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং ভুরঘাটা থেকে আসা বাসগুলো আটকে মীরগঞ্জ সড়কে রাখা হয়। এতে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ সময় ৫-৬টি বাস ভাঙচুর এবং এক বাসশ্রমিককে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে সিএনজি চালকদের বিরুদ্ধে।
এর পর দুপুর দেড়টা থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাস মালিক গ্রুপের নেতারা। পরে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকার মহাসড়কে বাস আড়াআড়ি করে রেখে অবরোধ করা হয়। এতে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে বাসসহ বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। অনেক বাস থেকে যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। এ সময় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা শুভেচ্ছা পরিবহনের এক চালককে মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থ্রি-হুইলার চালকেরা জানান, সোমবার প্রশাসনের উদ্যোগে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এ কারণে তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

মাহিন্দ্রা চালক আলী হোসেন, লিটন হাওলাদার, সাহাদাত, ফারুক ও মোস্তফা হাওলাদার অভিযোগ করেন, নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী ওঠাতে গেলে বাস মালিক সমিতির কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের মারধর ও গালাগাল করেন। পাশাপাশি মাহিন্দ্রায় যাত্রী ওঠাতেও বাধা দেওয়া হয়।
তারা বলেন, সরকারকে নিয়মিত কর-ট্যাক্স দিয়ে গাড়ি চালালেও তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থান নেওয়া বাসশ্রমিকেরা বলেন, মহাসড়কে চলাচলরত অবৈধ থ্রি-হুইলার চালক ও মালিকেরা বাস চলাচলে বাধা দিয়েছেন। তারা ৫-৬টি বাস ভাঙচুর এবং এক বাসশ্রমিককে মারধর করে গুরুতর আহত করেছেন। এসব ঘটনার বিচার এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান তারা।
বরিশাল-ভুরঘাটা রুটের যাত্রী জেসিকা আহমেদ বলেন, দুপুর থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাহিন্দ্রা ও বাসশ্রমিকদের দ্বন্দ্ব নিজ নিজ কার্যালয়ে বসে সমাধান করা যেত। কিন্তু তা না করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো মানে হয় না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, সোমবারের মতো মঙ্গলবারও বাস থামিয়ে শ্রমিকদের মারধর ও ভাঙচুর করা হয়েছে। যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছেন থ্রি-হুইলার চালকেরা। এসব ঘটনার বিচারসহ অন্যান্য দাবি আদায়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকের পর বাস চলাচল শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, সোমবার সকালে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার শিমুলতলা এলাকার একটি বাস কাউন্টারের সামনে থেকে মাহিন্দ্রায় যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বাসশ্রমিকদের সঙ্গে মাহিন্দ্রা চালকদের বিরোধ হয়। এর জেরে মাহিন্দ্রা চালক ও শ্রমিকেরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় ২০টি বাস আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাস ভাঙচুরেরও অভিযোগ করা হয়।
পরে বাসশ্রমিকেরা অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে পরদিন মঙ্গলবার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও ধর্মঘটে ফের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ অচল হয়ে পড়ে।
প্রতিনিধি/এসএস