জেলা প্রতিনিধি
২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের আরাফাত নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধভাবে কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে কোচিং চলাকালীন ওই শিক্ষকের কাছে গেলে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে পিরোজপুর শহরের কৃষ্ণচূড়া মোড় এলাকায় শহীদ ওমর ফারুক কিন্ডারগার্টেনের পেছনে একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরাফাত ওই কক্ষে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে কোচিং করাচ্ছিলেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর সুযোগ নেই। এছাড়া পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বর্তমানে জেলার সব ধরনের কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে ওই শিক্ষক নিয়মিত কোচিং করাচ্ছেন- এমন তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আসে। পরে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
হামলায় স্টার নিউজ ও দৈনিক নয়া দিগন্তের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, চ্যানেল ওয়ানের পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি শাফিউল মিল্লাত এবং চ্যানেল এসের পিরোজপুর প্রতিনিধি জিয়াউল হক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, কোচিং কার্যক্রমের ভিডিও ধারণের সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোচিং পরিচালনার অভিযোগ তদন্ত এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর তালুকদার বলেন, ১০-১৫ দিন আগেই স্কুলের সকল শিক্ষককে কোচিং না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমার জানামতে আমার স্কুলের সকল শিক্ষক এই নির্দেশনা মেনে চলছে। কিন্তু কোচিং বিষয়ে সাংবাদিকরা নিউজ সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষকের সঙ্গে একটি ঘটনার কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের সভাপতি পিরোজপুর জেলা প্রশাসক (আবু সাঈদ) তার নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আরাফাত ইসলামের কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করে কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আবার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, কোচিং সংক্রান্ত নিউজ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক শিক্ষক কর্তৃক আক্রমণের শিকার হয়েছে, এরকম একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এএইচ