Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সংবাদ সংগ্রহের জেরে সাংবাদিককে আসামি, তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত!

জেলা প্রতিনিধি

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুতের দাবিতে স্থানীয়দের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের জেরে নিউজ২৪ টেলিভিশনের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রবিউল হাসানকে এক নম্বর আসামি করে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে বড়খাতা নেসকো বিভাগের প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেনের বিরুদ্ধে। রমজান

অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা মামলাটি কোনো ধরনের প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই নথিভুক্ত করে আদালতে পাঠায় হাতীবান্ধা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন সাংবাদিককে গুরুতর মামলায় আসামি করার ঘটনায় স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া জোড়াপুকুর এলাকায় টানা তিন দিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান নিউজ২৪-এর লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রবিউল হাসান। তার ভাষ্য, তিনি বিক্ষোভের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়িচালক ও বড়খাতা নেসকো বিভাগের প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেনের বক্তব্যও ধারণ করেন।

ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর গত ১৩ জুন প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেন বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলায় রবিউল হাসানকে এক নম্বর আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হওয়া, বিদ্যুৎকর্মীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক ও গালিগালাজ, সরকারি কাজে বাধা, বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা, কর্মীদের মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক রবিউল হাসান। তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করছিলেন।

রবিউল হাসান বলেন, ফকিরপাড়া জোড়াপুকুরে বিদ্যুতের দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ির চালক ও বড়খাতা প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেনের বক্তব্যও ধারণ করেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

তবে মামলার বাদী নেসকোর প্রকৌশলী রেজওয়ান হোসেন বলেন, রবিউল হাসান উসকানি দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন। তার ভাষ্য, সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকের মুখ্য বিষয় ছিল না। এ কারণে তারা বিচার প্রত্যাশা করছেন।

এদিকে মামলাটি নথিভুক্তের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক রবিউলের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের প্রাথমিক তদন্ত না করেই মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করে আদালতে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে তৎকালীন হাতীবান্ধা থানার ওসি ও বর্তমানে জেলা ডিবি কার্যালয়ে কর্মরত রমজান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজাহারে সংবাদকর্মী লেখা নেই। তিনি জড়িত কি না, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।

ওসির এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের মাধ্যমে যদি সাংবাদিক রবিউল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা নির্ধারণ করতে হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার আগে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল কি না।

সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কোনো ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক যদি ওই ঘটনার মামলার প্রধান আসামি হন, তাহলে মাঠপর্যায়ে স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা কতটা নিরাপদ। রবিউল হাসান কেবল সংবাদ সংগ্রহের কারণে মামলার আসামি হয়েছেন কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা বলছেন, সংবাদ সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিককে হয়রানি বা মামলার মুখোমুখি হতে হলে তা শুধু একজন সাংবাদিকের বিষয় নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও প্রভাব ফেলে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।