জেলা প্রতিনিধি
২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় ঋণের চাপ ও সুদকারবারিদের হুমকির কারণে আব্দুস সালাম (৬৫) নামের এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। স্বজনদের দাবি, ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
আব্দুস সালাম উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের ধামর মধ্যপাড়া গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে। শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
নিহতের স্ত্রী নূর জাহান (৬০) অভিযোগ করেন, দুই ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ১০ মাস আগে সুদকারবারি লিটনের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন তার স্বামী। এর বিপরীতে ছয়টি সাদা ব্যাংক চেকের পাতা জমা রাখা হয়েছিল। পরে ধার করা টাকা পরিশোধ করলেও লিটন আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে চাপ দিচ্ছিলেন বলে তার অভিযোগ।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোট ছেলে কাজল মিয়াকে বিদেশ পাঠাতে শিবগঞ্জ এলাকার সাইফুল ইসলামকে সাড়ে সাত লাখ টাকা দেন আব্দুস সালাম। তবে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে সাইফুল টাকা আত্মসাৎ করেন বলে পরিবারের অভিযোগ। পরে বাড়ির জায়গা বিক্রি করে সুদকারবারির টাকা পরিশোধ করেন সালাম। তবে ওই সময় দেওয়া ছয়টি সাদা চেক তার কাছেই থেকে যায়।
পরে স্থানীয় প্রবাসী ঈমান আলীর মাধ্যমে কাজলকে ইরাকে পাঠানো হয়। তবে গত ১০ মাস ধরে কাজল কোনো টাকা পাঠাতে পারছেন না বলে পরিবার জানায়। এ অবস্থায় পরিবারটি তিন-চারটি এনজিও থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা ঋণ নেয়।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করে, শনিবার রাত আটটার দিকে লিটন তাদের বাড়িতে গিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সালামের মেয়ের জামাই জাকিরুল ইসলামকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই দিন ফালুর বাজারে মোর্শেদের ঘরে জাকিরুলকে পেয়ে লিটন টাকার জন্য চাপ দেন এবং তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনা সালামকে জানানো হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরদিন রোববার সকালে বাড়ির কাছে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের মেয়ে হাজেরা খাতুন বলেন, ‘সুদের টাকা দিতে দিতে আমার বাবা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বাড়ির ভিটা বিক্রি করে গাছতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঋণের চাপ থেকে বাবাকে মুক্ত রাখতে আমিও আরডিএস নামের একটি এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তাকে দিয়েছিলাম। গত বৃহস্পতিবার ওই এনজিওর ম্যানেজারসহ কয়েকজন বাড়িতে এসে টাকা দিতে না পারলে বাবাকে মরে যেতে বলেন বলে আমার অভিযোগ।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা যাদের কারণে আত্মহত্যা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের শাস্তি চাই। ঋণের কারণে আর কোনো সন্তান যেন বাবা না হারায়।’
অভিযোগের বিষয়ে আরডিএসের ম্যানেজার সোহেল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নিহতের মেয়ের জামাই জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঋণের চাপের কারণে আমার শ্বশুর আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
ফুলবাড়ীয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মশিউর রহমান বলেন, ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করা কৃষকের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিন-চারজন সুদকারবারির নাম মৌখিকভাবে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস