Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

দিনাজপুরে ডলার প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

দিনাজপুরে ডলার প্রতারণার অভিযোগে রশিদুল ইসলাম (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত দুইটার দিকে দিনাজপুর সদর থানার রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

গ্রেফতার রশিদুল ইসলাম দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট সকাল পৌনে ১২টার দিকে খানসামা থানার ২ নম্বর ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া গ্রামের চেয়ারম্যানপাড়ায় সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ডলার প্রতারণার সময় দুজনকে গ্রেফতার করে খানসামা থানা-পুলিশ। এরপর চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সাইবার শাখা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রশিদুলকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রশিদুল ডলার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং চক্রটির প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা ঢাকা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্ব ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে নিজেদের দিনমজুর, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক কিংবা কারখানার শ্রমিক পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জন করেন।

একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীদের জানান, তারা কিছু ডলার কুড়িয়ে পেয়েছেন। কিন্তু এসব ডলার কীভাবে বা কার কাছে বিক্রি করবেন, তা তারা জানেন না। কম দামে ডলার কিনে নিলে কিংবা বিনিময়ে কিছু টাকা দিলে সেই অর্থ দিয়ে গরু, রিকশা বা অটোরিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহ করবেন বলেও প্রলোভন দেখান।

ভুক্তভোগীরা ডলার কিনতে রাজি হলে চক্রের সদস্যরা তাদের পূর্বনির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে চক্রের অন্য সদস্যরা ডিবি বা সাদা পোশাকের পুলিশের পরিচয়ে আগে থেকেই অবস্থান নেন। ডলার কেনাবেচার সময় তারা ভুক্তভোগীদের আটক করে অবৈধভাবে ডলার কেনাবেচার অভিযোগে গ্রেফতারের ভয় দেখান।

পরে জেল-হাজতে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে রশিদুল আরও জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এ চক্রের সঙ্গে জড়িত। প্রতারণার জন্য তারা সাধারণত পার্শ্ববর্তী থানার সীমান্তবর্তী এলাকা বেছে নেন। এতে এক থানা থেকে দ্রুত অন্য থানা এলাকায় পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও, খানসামা ও বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রের সদস্যদের চলাচল রয়েছে। তবে তাদের মূল লক্ষ্য নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

প্রতিনিধি/এসএস