Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সম্পত্তি আত্মসাতে ৩ হাজার টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে ভাইকে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি

২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফারুক শেখ (৪৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ। পারিবারিক কলহ, মায়ের ওপর নির্যাতন ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি এনে নিজের ঘুমন্ত বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।

গ্রেফতাররা হলেন- গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেউটিল জামতলা এলাকার মো. খালেক শেখের ছেলে ও নিহত ফারুকের ছোট ভাই মো. বারেক শেখ (৪৪), দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন মণ্ডলপাড়ার ওয়াজেদ সরদারের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলম (২৬) ও একই এলাকার মো. বাবু শেখের ছেলে মো. রুবেল শেখ (৩০)।

নিহত ফারুক শেখ গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলা এলাকার খালেক শেখের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ বসতবাড়ির শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

ঘটনার পর দিনই নিহতের বাবা মো. খালেক শেখ (৭০) গোয়ালন্দঘাট থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ তদন্ত দল অনুসন্ধানে নামে। গোপন সংবাদ ও তথ্যে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

জিজ্ঞাসাবাদে বারেক শেখ স্বীকার করেন, পারিবারিক বিরোধ, জীবদ্দশায় মায়ের ওপর অত্যাচার এবং ফারুকের টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই তিনি এই হত্যাকাণ্ডের ছক আঁকেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী দৌলতদিয়া এলাকার সহকর্মী আলমগীর ও রুবেলকে মাত্র ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে ফারুককে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেল বারেকের বাড়িতে এলে তিনি তাদের হাতে দুটি ধারালো দা তুলে দেন এবং নিজে বাইরে চলে যান। পরে ঘাতকরা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ফারুককে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

বারেক শেখের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে দৌলতদিয়া থেকে আলমগীর ও রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনাস্থলের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে রক্তমাখা দুটি ধারালো দা, রক্তমাখা পোশাক, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক জানান, গ্রেফতার তিন আসামিকেই আদালতে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে আর কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম ও জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. মফিজুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/এলএ