উপজেলা প্রতিনিধি
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
ব্যবসার কাজে প্রায়ই কলকাতায় যেতেন সাভারের আমিনবাজারের বাসিন্দা আহম্মেদ বাবু (৩৭)। সেই কলকাতাতেই একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। শনিবার তার মরদেহ দেশে আনার পর রোববার জানাজা শেষে সাভারের আমিনবাজার বড়দেশী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জানাজার আগে আমিনবাজারের হাজী বাড়ী মসজিদের সামনে স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন বাবুর স্ত্রী গুলশানারা। লাশবাহী গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মাকে জড়িয়ে কাঁদছিল আট বছরের মেয়ে এলিনা হাসান রোজা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে গুলশানারা বলেন, ‘ব্যবসার কাজে সে কলকাতায় যেত। সে এভাবে পৃথিবী থেকে চলে গেল, আমাকে রেখে। আমাকে বিধবা বানাল, আমার দুইটা বাচ্চাকেও এতিম বানাল।’
স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় গুলশানারা। সরকারের কাছে সহায়তা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চা দুইটার ভবিষ্যতের জন্য কিছু একটা যেন করে। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির একটা সুযোগ যেন করে দেয়।’
বাবাকে হারিয়ে তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি মনে পড়ছে রোজার। কাঁদতে কাঁদতে সে বলে, ‘বাবা ইন্ডিয়া থেকে আসার সময় চকলেট আনত, চিপস আনত। অনেক কিছু কিনে দিত।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাবুর মরদেহ দেশে আনা হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে সাভারের উদ্দেশে রওনা দেন। রাত তিনটার দিকে তারা সাভারে পৌঁছান।
রোববার সকাল সোয়া নয়টার দিকে আমিনবাজারের হাজী বাড়ী মসজিদের সামনে থেকে লাশবাহী গাড়িতে মরদেহ নেওয়া হয় হিজলা পাঁচ মসজিদ মাঠে। সেখানে জানাজা শেষে আমিনবাজার বড়দেশী কবরস্থানে বাবুকে দাফন করা হয়।
বাবুর বন্ধু মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘বাবু আর আমি একসঙ্গে ইন্ডিয়া অনেকবার গিয়েছি। শেষবার যখন গিয়েছিলাম, ওই হোটেলের এসিতে আগুন লেগে যায়। তখনই আমি বাবুকে বলেছিলাম, তুই আর এই হোটেলে উঠিস না। হোটেলটা ভাঙাচোরা, দুর্বল, নোংরা—পরিবেশ ভালো না।’

কথা বলতে বলতে থেমে যান ইব্রাহীম। পরে বলেন, ‘মানুষটা খুব ভালো ছিল। এভাবে চলে যাবে, কখনো ভাবিনি।’
স্বামীর মরদেহ দাফন শেষে এখন দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি গুলশানারা। বাবাকে হারিয়ে ছোট্ট রোজার চোখে শুধু কান্না। পরিবারের জন্য শোকের পাশাপাশি সামনে এখন কঠিন বাস্তবতার লড়াই।
প্রতিনিধি/এসএস