জেলা প্রতিনিধি
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। ফলে নির্ধারিত দিনেই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে স্থানীয় বারইগ্রাম বাজারে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকের পর নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে সবাই একমত হন।
তবে নৌকাবাইচের নির্ধারিত স্থান নদীভাঙনপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় জায়গাটি কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিবাদকারীরা। বিষয়টি পর্যালোচনা করতে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার বিকেলে কমিটির সদস্যরা নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করবেন।
বিয়ানীবাজারের লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচের সঙ্গে ‘তৌহিদী জনতা’র বিষয়টি জড়িয়ে দিয়ে কেউ কেউ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হওয়া গেছে।
তিনি বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে এমন স্থান থেকে নৌকাবাইচ কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ এসেছে। রোববার বিকেলে নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করে জায়গাটি কিছুটা সরানো সম্ভব কি না, তা দেখা হবে। সুযোগ থাকলে নৌকাবাইচের স্থান কিছুটা সরিয়ে নেওয়া হবে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দুই পক্ষকে নিয়ে সভা হয়েছে। সভায় উভয় পক্ষ নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বসতি, জমিজমা ও ভাঙনকবলিত এলাকার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি তদারক করতে ১২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এরপর এ নিয়ে আর কোনো জটিলতা হবে না।
গত ১৮ আগস্ট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র নামে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় একটি পক্ষ। এ নিয়ে শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
প্রতিনিধি/এসএস