জেলা প্রতিনিধি
২৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তিনটি সরকারি খাদ্যগুদাম দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও দেখা দিয়েছে ফাটল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছাদও। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় গুদামে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, পাথরঘাটার এসব খাদ্যগুদাম ১৯৮০ সালে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশ এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই খাদ্যশস্য ওঠানো-নামানো ও সংরক্ষণের কাজ করছেন শ্রমিকরা।
গুদাম-সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে গুদামের ভেতরে। এতে খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সাময়িকভাবে পলিথিন দিয়ে খাদ্যশস্য ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি কোনো সমাধান নয়।
স্থানীয়রা জানান, খাদ্য সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় রাখা ঠিক নয়। দ্রুত ভবনগুলোর কাঠামোগত সক্ষমতা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ছাদ মেরামত এবং খাদ্যশস্য ওঠানো-নামানোর নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি খাদ্য মজুতও সুরক্ষিত থাকবে।
পাথরঘাটা খাদ্যগুদামের লেবার সরদার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গুদামের ভেতরে কাজ করতে সব সময়ই ভয় লাগে। মাঝে মধ্যে দেয়ালের পলেস্তারা খসে শ্রমিকদের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে। ভবন নির্মাণের পর বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গুদামের সামনের সড়কের অবস্থাও ভালো নয়। খাদ্যশস্য ওঠানো-নামানোর সময় শ্রমিকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নৌযান বা কার্গো থেকে মালামাল নামানোর জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে কাঠের তক্তা ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে খাদ্যশস্য গুদামে নিতে হয়।
পাথরঘাটা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক অঞ্জন কুমার ডাকুয়া বলেন, গুদামগুলো বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি