Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ভাঙায় এক নারীকে নিয়ে দুই ভাইয়ের মারামারি, আহত ৫

জেলা প্রতিনিধি

২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫২ এএম

ফরিদপুরে এক নারীকে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে টানাটানি, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় তিন নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জেলার ভাঙা থানার গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচরা গ্রামের আজিজুল হকের বড় ছেলে একরাম আলী পার্শ্ববর্তী গ্রামের পূর্ণিমা নামের এক নারীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। বিয়ের পর একরামের ছোট ভাই আব্দুল্লাহর সঙ্গে ভাবি পূর্ণিমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার সকালে পূর্ণিমা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে আব্দুল্লাহর সঙ্গে সাভারে চলে যান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পূর্ণিমার বাবা ও বড় ভাই সাভার থেকে তাকে উদ্ধার করে শনিবার দুপুরে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য দুই পক্ষের স্বজনরাও থানায় উপস্থিত হন।

তবে থানায় আনার পর পূর্ণিমাকে নিয়ে দুই ভাইয়ের পক্ষের লোকজনের মধ্যে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পূর্ণিমাকে নিয়ে দুই ভাই ও স্বজনদের মধ্যে টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে তিন নারীসহ পাঁচজন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংশ্লিষ্টদের থানা প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেয়।

পূর্ণিমার বাবা বলেন, মেয়েকে সাভার থেকে উদ্ধার করে বিষয়টি আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যেই থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দুই পক্ষের স্বজনদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এদিকে, ঘটনার সময় তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনজন সাংবাদিকের সঙ্গেও এক ব্যক্তি দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে হট্টগোল ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে তিনি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চলে যান। তবে তার পরিচয় বা তিনি সত্যিই সেনাবাহিনীর সদস্য কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ভাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, থানার গেটের সামনে এক নারীকে নিয়ে পরিবারের লোকজনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছে। পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে বের করে দিয়েছে।

তবে এ ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তবে, দুই পক্ষের অভিযোগের সত্যতা এবং নারীকে সাভারে নিয়ে যাওয়ার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশি তদন্তে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিনিধি/ এজে