জেলা প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ পিএম
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (পারস্পরিক শুল্ক) শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিভিন্ন দেশের ওপরই আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারের মধ্যে একটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে পুলিশ কমিশনার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ভারতের যে-সব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছেন। তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, স্থলবন্দরগুলো বন্ধ থাকার কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যায় বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের কাছে দিয়েছেন। তিনি এসব প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাদের কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ রয়েছে। সরকার সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছে।
বাণিজ্য বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানি রফতানির তুলনায় বেশি। পৃথিবীর অনেক দেশেই আমদানি বেশি এবং রফতানি তুলনামূলকভাবে কম। এটি অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, রফতানি বাড়লে আমদানির পরিমাণও বাড়বে। রফতানি ও আমদানি মিলিয়ে দেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণের সামঞ্জস্য থাকা দরকার।
তিনি বলেন, দেশটির আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে এই বাণিজ্যের পরিমাণ পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা কেমন আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমরা কেমন দেখতে চাই। প্রথম হলো, সিলেটে আমরা কোনো মাদকের আনাগোনা দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, সিলেটে আমরা কোনো অনলাইন জুয়া দেখতে চাই না। সিলেটে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আমরা দেখতে চাই না। আমরা এ বিষয়ে এসএমপির কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি যে, আগামী দিনে মাদক, অনলাইন জুয়া এবং কিশোর গ্যাংয়ের কোনো তৎপরতা আমরা সিলেটে দেখতে চাই না।
এমপি মুক্তাদির বলেন, এসব সমস্যা নির্মূলে আইনের মধ্যে থেকে যা করা দরকার, তিনি তা করবেন।
চাকরিজীবীদের জীবনমান ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রশ্নটি অর্থমন্ত্রীর কাছে করা উচিত। তিনি বলেন, মাননীয় অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন আপনি আমার কাছে নিয়ে এসেছেন। এই প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের মুক্তমনে প্রশ্ন করার অধিকারই সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান, যেন প্রশাসনিক কাজে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এর আগে, এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠকে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিনিধি/ এজে