জেলা প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
রক্তের সম্পর্ক নেই, নেই আত্মীয়তার বন্ধন। তবু ১১২ জন এতিম মেয়ের বিয়েতে বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের ব্যবসায়ী রুহুল আমীন রুবেল। কনের বেনারসি, গহনা থেকে শুরু করে বিয়ের মঞ্চ, আলোকসজ্জা, খাবার—সব আয়োজনই করেছেন নিজের খরচে।
সর্বশেষ শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া গ্রামের ১৯ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার তিথির বিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাজশাহীর তালাইমারী এলাকার বর তরিকুলকে সোনার আংটি দিয়ে বরণও করেন রুবেল।
রুহুল আমীন রুবেল নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে। তার অ্যাগ্রো ফার্ম ও ইলেকট্রনিকসের ব্যবসা রয়েছে।
জানা গেছে, সাত বছর বয়সে মায়ের কাছ থেকে পাওয়া একটি মানবিক শিক্ষা রুবেলের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। তার মা নিজের নতুন শাড়ি এক অসহায় নারীকে দিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৯ সালে নিজের টাকায় গরুর মাংস কিনে খিচুড়ি রান্না করে অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ শুরু করেন রুবেল।

২০০২ সালে এলাকায় এক এতিম ও প্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ের আয়োজনের মাধ্যমে শুরু হয় তার এই মানবিক উদ্যোগ। এরপর গত দুই দশকে নিজের ব্যবসা ও সম্পদের অর্থে ৬৭ জন এতিম মেয়ের বিয়ে দেন তিনি।
২০২৩ সালে বগুড়ার বিদুপাড়া গ্রামের দিনমজুর মাফুজার রহমান অর্থের অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিলেন না। খবর পেয়ে রুবেল বিয়ের দায়িত্ব নেন। তখন আর্থিক সংকটে থাকলেও নিজের খামারের গরু বিক্রি করে মাকছুদা খাতুনের বিয়ে দেন। এ বিয়ের খরচ জোগাতে নিজের ১৯ শতাংশ জমিও বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে।
রুবেলের দাবি, ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট পর্যন্ত তিনি মোট ১১২ জন এতিম মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। প্রতিটি বিয়েতে ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন। বিয়ের আয়োজন ছাড়াও অসহায় মানুষের জন্য ঘর ও কালভার্ট নির্মাণ, প্রতি শুক্রবার দুস্থদের খাবার বিতরণ এবং বিভিন্ন দুর্যোগ ও উৎসবে সহযোগিতা করে আসছেন তিনি।
_20260822_183602154.jpg)
সর্বশেষ বিয়ে হওয়া তিথির মা জহুরা খাতুন বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। রুবেল ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তিনি সব দায়িত্ব নেন। নিজের মেয়ের মতো করে বিয়ের আয়োজন করেছেন। এমন আয়োজন কল্পনাও করতে পারিনি।’
নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে রুহুল আমীন রুবেল বলেন, ‘পৃথিবীতে আমরা সামান্য সময়ের অতিথি। একদিন চলে যেতে হবে, সঙ্গে কিছুই নেওয়া যাবে না। আখিরাতের জন্য কিছু সঞ্চয় করতে চাই। আমার বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদ ও নিজের সম্পদ এই কাজে ব্যয় করতে চাই।’
_20260822_183609567.jpg)
তিনি বলেন, ‘কোনো এতিম মেয়ের অর্থের অভাবে বিয়ে হচ্ছে না—এমন খবর পেলেই ছুটে যাই। টাকা থাক বা না থাক, বরযাত্রী ও অতিথিদের আপ্যায়নসহ বিয়ের সব আয়োজন নিজের অর্থেই করি। যতদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন, ততদিন এ কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এ ধরনের মানবিক কাজকে সাধুবাদ জানাই। সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তার মতো সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’
প্রতিনিধি/এসএস