Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

দেশে পৌঁছাল সাতক্ষীরার সাজুর মরদেহ, রেবতীর সৎকার ভারতে

জেলা প্রতিনিধি

২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি দেশে প্রবেশ করে।

পরে স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণ করে অ্যাম্বুলেন্সে করে কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

সকাল থেকেই সাজুর স্বজনেরা ভোমরা স্থলবন্দরে মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন। বেলা ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান দিপুসহ কয়েকজন স্বজন অপেক্ষা করছেন।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা বলেন, ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মরদেহ হস্তান্তরে কিছুটা সময় নেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দ জানান, নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে পাঠাতে উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

সাজুর মরদেহ গ্রহণ করতে ভোমরা স্থলবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ভাই দিপু, ফুফাতো ভাই উজ্জ্বল, মিথুনসহ স্বজনেরা। বড় ভাই সাহেব সরদার সেখানে যাননি। তিনি বাড়িতে থেকে কবর খননসহ দাফনের আনুষঙ্গিক কাজ তদারক করছেন।

ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরেক বাংলাদেশি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার সৎকার কলকাতাতেই সম্পন্ন হয়েছে।

বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দ বলেন, রেবতীর পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী ভারতে তার সৎকারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকার বহন করেছে।

রেবতীর ছেলে অনিক সরকার বলেন, তিনি ভারতের উত্তরাখণ্ডে দাদা-দাদির কাছে ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার ট্রেনে কলকাতায় পৌঁছান। পরে তাঁর বাবা কলকাতায় পৌঁছান। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে রেবতীর সৎকার সম্পন্ন হয়।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে নয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক।

নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতী সরকার ছাড়াও কুষ্টিয়ার চারজন এবং ঢাকার একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ শনিবার যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে।

একদিকে সাজুর মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা ফিরেছেন গ্রামের বাড়িতে, অন্যদিকে রেবতীর শেষ ঠিকানা হয়েছে কলকাতার শ্মশান। দুই পরিবারের কাছে কলকাতার সেই আগুন এখন কেবল একটি দুর্ঘটনার খবর নয়, এটি প্রিয় মানুষ হারানোর এক গভীর ক্ষত।

প্রতিনিধি/ এজে