জেলা প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় আদা চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তার ভাতিজাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে র্যাব-১৩ এর গাইবান্ধা ক্যাম্প থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নিপেন দাস খইলশা (৬১), শঙ্করাজ সেন ঠাকুর দাশ (২৮), সত্য সেন ওরফে সত্য দাশ (২১) ও শংকরী রানী (৫১)। নিপেন নিহত আদা চন্দ্র দাসের বড় ভাই। শঙ্করাজ ও সত্য তার ভাতিজা।
নিহত আদা চন্দ্র দাস সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া বেহারাপাড়া (রায়পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, বসতভিটার সীমানা নিয়ে আদা চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বড় ভাই নিপেন চন্দ্র দাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ৩ জুলাই নিপেন বিরোধপূর্ণ জায়গায় টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে দুই পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরদিন ৪ জুলাই সকালে নিপেনকে টয়লেট নির্মাণে নিষেধ করে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার প্রস্তাব দেয় আদা চন্দ্রের পরিবার। ওই দিন দুপুরে বাড়ির সামনে ছাগল চরানোর সময় নিপেন, তার দুই ছেলে শঙ্করাজ ও সত্যসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আদা চন্দ্রকে ঘিরে ফেলেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় বলে অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় আদা চন্দ্রকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ৪ জুলাই সাদুল্লাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১৩-এর গাইবান্ধা ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ও র্যাব-১২ বগুড়ার যৌথ দল শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাদুল্লাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস