Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সিলেটে মাজার-মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ৩০

জেলা প্রতিনিধি

২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানার সিলাম এলাকায় একটি মাজার ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ ও ৩৫-৪০টি দোকানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সিলামের চকের বাজার এলাকায় হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.)-এর জামে মসজিদ ও ঈদগাহের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া দুই পক্ষের আরও অন্তত ২৩ জন আহত হন। 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখপাড়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও মসজিদের মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়া, শুয়েব আহমদ, আরিফুল হক রনি, লতিফুর রহমান মেহদি এবং শাহ আব্দুল মান্নান, শাহ আবুল, শাহ সুমনসহ আরও অনেকে। 

তাদের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেট নিয়ে সিলাম শেখপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার উভয় পক্ষের লোকজন মসজিদে নামাজ পড়তে এলে বাইরে ওয়াকফ এস্টেট ও দোকান কোটা নিয়ে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে চণ্ডিপুল-বালাগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

হজরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে থেকে। গত ২৯ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসকের এক আদেশে এই ওয়াকফ এস্টেটের জন্য নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহ-সভাপতি এবং ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লি করা হয়। এ ছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লি এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।

এই আদেশের বিরুদ্ধে শাহ আব্দুল মান্নান উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। গত ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের বেঞ্চে এই রিটের শুনানি শেষে ওয়াকফ প্রশাসক অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়। তবে সাময়িকভাবে মোতাওয়াল্লি ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে আবেদ রাজাকে মাজার ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

প্রতিনিধি/এলএ