Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পেটে গজ রেখে সেলাইয়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পরিবারের পাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি

২১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম

সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে দেড় কেজি গজ রেখে সেলাই করার ঘটনায় দেড় মাস মৃত্যুর সাথে লড়াই করে হেরে গেলেন তিন সন্তানের জননী কনিকা মন্ডল (৩৫)। ভয়াবহ এই চিকিৎসা অবহেলার শিকার গৃহবধূর শেষ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

​শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকার বাড়িতে উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি শোকার্ত স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এ সময় মন্ত্রী স্বজনদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং সরকার সার্বক্ষণিকভাবে এই পরিবারের পাশে থাকবে। পরিদর্শনকালে তিনি মন্ত্রাণালয় ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। অবহেলার কারণে একজন মায়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাত যে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের 'সমরিতা হাসপাতালে' চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের অধীনে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল। অপারেশনের পরদিনই তার পেট আশঙ্কাজনকভাবে ফুলে ওঠে এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

​পরবর্তী সময়ে গত ৭ জুলাই চিকিৎসকদের চিকিৎসায় পরীক্ষার মাধ্যমে তার পেটের ভেতরে গজ রহিয়া যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই দিনই জরুরি অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে প্রায় দেড় কেজি ওজনের জমাটবদ্ধ গজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘ দেড় মাস ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট রাত সোয়া ২টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কনিকা।

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলা প্রমাণ হলে জড়িত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামসুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তারিফ উল হাসান, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন এবং বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব তালুকদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/ এজে