Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কলকাতার হোটেলে আগুন: স্বজনদের অপেক্ষা মরদেহের

জেলা প্রতিনিধি

২১ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

কয়েক দিন আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ভারতে গিয়েছিলেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫)। বুধবার সন্ধ্যার পর স্বজনেরা জানতে পারেন, কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপর থেকে স্বজনদের চোখে-মুখে শোক আর উৎকণ্ঠা—কবে দেশে ফিরবে প্রিয় মানুষটির মরদেহ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। কেউ নীরবে বসে আছেন, কেউ স্মৃতিচারণা করছেন। বড় ভাই সাহেব আলী সরদার বারবার মুঠোফোনে কলকাতায় যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তার একটাই অপেক্ষা, ভাইয়ের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আনা হয়।

আক্ষেপ করে সাহেব আলী সরদার বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিল। হোটেলে আগুন লাগার পর জানতে পারি, সে মারা গেছে। আত্মীয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এখন সরকারের হটলাইনে যোগাযোগ করছি। আমার ভাইয়ের লাশটা যেন দ্রুত পাই, সরকারের কাছে এটাই আমার আকুল আবেদন।’

সাজুর বাড়িতে চলছে নতুন ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি। একতলা বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় তলার জন্য ইটও কেনা হয়েছে। কিন্তু যে মানুষটি নতুন ঘরে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সাজুই আর ফিরবেন না।

2092065d-28bd-4b18-8522-734ed5988378

দীর্ঘদিন সাজুর বাড়ি দেখাশোনা করা কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ইট নিয়ে আসা হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করার কথা ছিল। ভাই (সাজু) বলেছিলেন, ভারত থেকে ফিরে এসে ঘের-বাড়ির কাজ দেখবেন। এখন এই অবস্থায় কী করব, কী বলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

প্রতিবেশী নাজমুল হুদা বলেন, সাজু অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তার এমন অপঘাতে মৃত্যুতে গ্রামের মানুষ গভীরভাবে নাড়া খেয়েছেন। কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি।

এই অগ্নিকাণ্ডে সাজুর পাশাপাশি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারও নিহত হয়েছেন। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ওই হোটেলে অবস্থানকালে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন তিনি। তার বাড়ি বর্তমানে তালাবদ্ধ।

কলকাতার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ জানান, সাজুর মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন কাজ করছে। জেলা প্রশাসনও বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে। প্রয়োজন হলে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তবে রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে তখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাজুর বাড়ির উঠানে এখনো পড়ে আছে নতুন ঘর তৈরির ইট। স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন প্রিয় মানুষটির ফেরার। তবে জীবিত নয়, শেষবারের মতো নিথর দেহ হয়ে।

প্রতিনিধি/এসএস