Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেলের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের জটলা, মানছে না নিয়ম

জেলা প্রতিনিধি

২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্ধারিত রয়েছে মাত্র তিনটি স্থান। ফ্রিজিং গাড়ির জন্য রয়েছে আরও দুটি স্থান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা মানছেন না অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। জরুরি বিভাগের সামনেসহ পুরো হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে শতাধিক বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স।

সম্প্রতি জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত স্থানের বাইরে সারি করে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। ফলে জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে ঢুকতেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

ফুলবাড়ীয়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, ‘জরুরি বিভাগের সামনে শত শত অ্যাম্বুলেন্স। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার বিশৃঙ্খল অবস্থাও রয়েছে। এ কারণে জরুরি বিভাগে রোগী নিয়ে ঢুকতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। আমার স্ট্রোক করা বড় ভাইকে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এই সমস্যার কারণে রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছাতে ২০ মিনিট সময় লেগেছে। অথচ আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তেমন তৎপরতা দেখা যায়নি।’

image-225268

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের সামনে সব সময় সারি করে শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকে। রোগী পরিবহনের চাহিদার তুলনায় অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বেশি হলেও রোগী পেলেই বেশি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাইরে থেকে কম ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে চাইলে চালকদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে জরুরি পরিবহনসেবা অ্যাম্বুলেন্সের এমন বিশৃঙ্খলা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির নেতাদের বক্তব্য এ বিষয়ে পাওয়া যায়নি।

images

কর্মচারীরাও পড়ছেন ভোগান্তিতে

হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইদানীং জরুরি বিভাগের সামনের অবস্থা খুব খারাপ। দিনে-রাতে শত শত অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সাধারণ রোগী তো দূরের কথা, আমরাও ঠিকমতো হাসপাতালে ঢুকতে পারি না। অথচ এই পরিস্থিতি দূর করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে আনসারদের পেছনে। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি বিভাগের সামনে নির্ধারিত স্থানের বাইরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার কথা নয়। তবে চালকদের দাবি, হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্স রাখার সুযোগ না থাকায় তারা ক্যাম্পাসের ভেতরেই গাড়ি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

myminsing-20210419221905

অ্যাম্বুলেন্স চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাইনবোর্ডের মাধ্যমে নির্দেশনা দিলেও বাইরে আমরা অ্যাম্বুলেন্স রাখতে পারি না। এ কারণে হাসপাতালের ভেতরে রাখতে হচ্ছে। তবে রোগী ও স্বজনদের কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই। এখানে না রাখলে কোথায় গাড়ি রাখব?’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শৃঙ্খলা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে ১১২ জন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের পেছনে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। তবে জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

আরও পড়ুন

জয়পুরহাট সীমান্তে বেহাল সড়ক, চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা

এ বিষয়ে হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের পিসি খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা সাধ্যমতো দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছেন। তবে জরুরি বিভাগের অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা কারও কথা শুনতে চান না। তারা নির্দেশনা অমান্য করে অ্যাম্বুলেন্স রাখছেন।’

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি কয়েক দিন অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে ছিলাম। এ সময় টহল কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন। তবে আমি যোগদান করেছি। এখন টহল জোরদার করা হবে এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দূর করা হবে। সেখানে কাউকে গাড়ি রাখতে দেওয়া হবে না।’

প্রতিনিধি/এসএস