Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ড. ইউনূসের বাড়িও এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র, চসিকের ১৫৫ হটস্পট চিহ্নিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাড়িও এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও স্বাস্থ্য বিভাগের পৃথক জরিপে নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ড. ইউনুসের নিরিবিলি বাড়ির আঙিনাসহ মোট ১৫৫টি স্থানকে এডিস মশার হটস্পট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া হটস্পটের তালিকায় রয়েছে নগরীর বেশ কয়েকটি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, কাপাসগোলা সিটি করপোরেশন মহিলা কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এছাড়া কাতালগঞ্জের পরিত্যক্ত ভবন, এগারো ডাইমের বিল্ডিং, টুপিওয়ালা পাড়া, মীর নাসির গলি, মুন্সিপুকুর পাড় এবং চকবাজার কাঁচাবাজারের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানকেও এডিস মশার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানান চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি।

তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের কীটতত্ত্ববিদদের জরিপ অনুযায়ী নগরের ৮টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমরা সম্ভাব্য ১৫৫টি প্রজননক্ষেত্র বাছাই করে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ ও প্রজননস্থল ধ্বংস করেছি।’

সরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘আমাদের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে গৃহপালিত বা ভিআইপি মশা বলা হয়, কারণ এটি ডমেস্টিক পর্যায়ে বেশি থাকে। দিনের বেলা বা রাতে মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনদিনের বেশি বসতবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত রোগীর বাসস্থান চিহ্নিত করে আঙিনা ও আশপাশের ৫০০ মিটার এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগের কাজ চলছে। ’

ইতোমধ্যে ৩ নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত নয়া হাট বাজার, কুয়াইশ রোড, বকশি নগর, চালিতাতলী (নির্মাণাধীন ভবন ও বাজার), চালিতাতলী শীলবাড়ি মন্দির, পাঁচলাইশ উচ্চ বিদ্যালয়, রূপনগর আবাসিক, গুলবাগ আবাসিক, আহমদীয়া হাউজিং সোসাইটি, পশ্চিম শহীদনগর, মধ্যম শহীদ নগর (নির্মাণাধীন আবদুস ছত্তার টাওয়ার), অক্সিজেন আবাসিক এলাকা, পাঠানপাড়া এবং আতুরার ডিপো (জাহানপুর ও হাসেমপাড়া বাজার) এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান চসিকের এই কর্মকর্তা।

২ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে প্রজননস্থলের তালিকায় আছে- কে বি গ্রামার স্কুল, বালুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাইনিং জুয়েল স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসা, অন্ধ হুজুরের মাজার ও আশপাশের ডোবা, আগুন ফকিরের মাজার, খন্দকীয়া হাট, চন্দননগর বাজার, শেরশাহ সংলগ্ন বাজার-কলোনি ও হাউজিং, অক্সিজেন মোড়ের পাশের আবাসিক এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট গেটের বিপরীতের দোকানসমূহ, বালুছড়া আবাসিকের শুরুর দিকের নির্মাণাধীন ভবন, শীতল ঝর্ণা আবাসিক।

এছাড়া জেলা পরিষদ আবাসিক, ওয়াপদা গলি কলোনি, আলপনা কম্পিউটারের উত্তর পাশ, খাজা টাওয়ার এলাকা, কুঞ্জছায়া আবাসিক, ডেবারপাড় এলাকা, চন্দননগর আবাসিক, শ্যামল ছায়া আবাসিক, বিহারি কলোনি, সড়ক ও জনপদ কোয়ার্টার, জামশেদ শাহ রোডের আশপাশের পরিত্যক্ত জায়গা এবং সেনা কল্যাণ মিলের সামনের রাস্তার ফুলের টবকে মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডে আছে বি.এড কলেজ, বাকলিয়া স্কুল (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), মৌসুমী আবাসিক এলাকা, কালাম কলোনি (আব্দুল লতিফ রোড), চান মিয়া মুন্সির লেইন, তাহের কলোনি, শান্তি নগর এলাকা, মিয়া বাপের মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, মদিনা মসজিদ লেইনের নির্মাণাধীন ভবন এবং সাবেক কাউন্সিলের বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।

নগরীর ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে চিহ্নিত প্রজননস্থলের তালিকায় আছে বড় কালি বাড়ি (ঈশান মহাজন রোড), গোলার বাড়ি (সিটি গেট সংলগ্ন), মনসুরাবাদ, সাগরিকা শিল্প এলাকা, কাস্টমস একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল, স্টেডিয়াম সংলগ্ন খেজুরতলা জেলেপাড়া, বিশ্বাস পাড়া, আমানত উল্লাহ শাহ পাড়া, নাজির বাড়ি, মুন্সি বাড়ি, মুকিম তালুকদার বাড়ি, সিডিএ আবাসিকের নালা, প্রশান্তি আবাসিকের নালাসমূহ, আগ্রাপাড়া (ভিক্টোরিয়া জুট মিল), কুতুব বাড়ি, জাকের উল্লাহ সওদাগরের বাড়ি, বশির মোহাম্মদ বাড়ি, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, আচার্য্য পাড়া-জলিল মিস্ত্রি বাড়ি, তমিজুর রহমানের বাড়ি (ওয়ার্ড অফিস সংলগ্ন), পন্ডিত বাড়ি, ছোট কালি বাড়ি, জ্বালাকুমারী মন্দির, কাট্টলী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, চান মিয়া ডাক্তারের বাড়ি, উত্তর সরাইপাড়া (অলংকার), কর্নেল হাটের আশরাফ আলী চৌধুরী বাড়ি, সিরাজ উদ্দিনের বাড়ি ও নুর মোহাম্মদ বাড়ি, পেয়ারি মোহন সেনের বাড়ি, শাহের পাড়া এবং ৩৪ নং ওয়ার্ডের তিলোত্তমা, এমপি সাহেবের ড্রেন, ইসলাম কলোনি ও মনোহর খালি এলাকায়ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানতে চাইলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসার প্রহরী মো. সায়েম খান বলেন, ‘স্যার প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় এখানে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হত। এখন আর সেভাবে ওষুধ ছিটাতে আসেন না। বৃষ্টি হলেই আঙিনায় পানি জমে যায়। মূলত এ কারণেই জায়গাটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।’

প্রতিবেদক/এএম