জেলা প্রতিনিধি
২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
ফেনীতে পরকীয়ার জের ও যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার ৮ বছর পর স্বামী একরামুল হক ওরফে চুট্টুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.এন.এম মোর্শেদ খান এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি একরামুল হক চুট্টু দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের মালেক মাস্টার বাড়ির সৈয়দ আহমদের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ফেনী পৌরসভার বারাহীপুর এলাকার আরজিনা আক্তারের সঙ্গে একরামুল হক চুট্টুর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই চুট্টু অন্য এক নারীর সাথে পরীয়ায় জড়িয়ে পড়লে দাম্পত্যজীবনে কলহ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সে স্ত্রী আরজিনার পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আরজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বাড়তে থাকে।
এরই জেরে ২০১৮ সালের ২৬ আগস্ট রাতে নির্যাতনের একপর্যায়ে আরজিনা মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন ২৭ আগস্ট পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করে। একরামুল হক চুট্টুকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে দাগনভূঞা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত আরজিনার মামা মীর হোসেন দুলাল।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি (পিপি) শাহাব উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দিয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের পর থেকে রায় কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এলএ