২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৩ এএম
নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ না করা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও কমিউনিটি কন্টেইনারের সংকট, নির্ধারিত সময়ে ময়লা অপসারণ না হওয়া এবং পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়ায় বরগুনা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় জনভোগান্তিও বাড়ছে।
সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর এলাকার প্রধান কয়েকটি সড়কে পরিচ্ছন্নতার কাজ দেখা গেলেও অধিকাংশ পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে নিয়মিত নজরদারি নেই। অনেক ডাস্টবিন ও বর্জ্য সংগ্রহের পয়েন্টে ময়লা জমে উপচে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ও গরমকালে এসব স্থানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে।
নাগরিকদের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর আগে আবাসিক এলাকায় বাসাবাড়ির বর্জ্য রাখার জন্য ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা হলেও বর্তমানে তা কার্যকর নেই। ফলে অনেকেই নিজেদের সুবিধামতো স্থানে ময়লা ফেলছেন। পর্যাপ্ত কমিউনিটি কন্টেইনার না থাকায় নির্দিষ্ট স্থানেও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে।
বর্জ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনাও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিকরা। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে সর্বোচ্চ ১৬টি বর্জ্য পরিবহনকারী গাড়ি কার্যকর রয়েছে। একসময় এ সংখ্যা ছিল ২২টি। পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জনবল সংকটকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন নাগরিকরা। একইসঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি, নাগরিক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে সচেতন নাগরিক কমিটির বরগুনার পাঁচ সদস্যের একটি টিম গত তিন মাস ধরে পৌর এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
টিমের সদস্যরা হলেন- নূরে জান্নাত সাবরিনা, মো. ইউসুফ সাগর, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আলম ও মেসবাহ উদ্দিন।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, শহর পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। তবে নাগরিকদের কাছ থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও যথাযথভাবে অপসারণে পৌর কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব শহরের অন্যতম শর্ত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। জনবল, যানবাহন, ডাস্টবিন, নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ও তদারকির সমন্বিত উন্নয়ন জরুরি।
এএইচ