জেলা প্রতিনিধি
১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ইতালিতে পাঠিয়ে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক যুবককে কাতারে পাঠানো এবং সেখানে নির্যাতনের অভিযোগে করা মানব পাচার মামলায় আবু সাহেব ঢালী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর পাতাং গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ও আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার আবু সাহেব ঢালী চর পাতাং গ্রামের মৃত আনিছ উদ্দিন ঢালীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর পৌরসভার নতুন মাদারীপুর এলাকার সানোয়ার হাওলাদারের ছেলে সেতাফ হাওলাদারকে ইতালিতে পাঠিয়ে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন আবু সাহেব ঢালী। তার কথায় বিশ্বাস করে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ সেতাফের পাসপোর্ট ও নগদ এক লাখ টাকা দেন তার বাবা।
অভিযোগ অনুযায়ী, একই বছরের ৫ ডিসেম্বর সেতাফকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। তবে ইতালিতে পাঠানোর পরিবর্তে তাকে কাতারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, কাতারে যাওয়ার পর সেতাফকে মাফিয়াদের মাধ্যমে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে টাকা নেওয়া হয়। একপর্যায়ে কাতার পুলিশের হাতে আটক হন সেতাফ। পরে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন।
সেতাফের বাবা ও মামলার বাদী সানোয়ার হাওলাদার বলেন, আবু সাহেব ঢালী তাদের পূর্বপরিচিত হওয়ায় তার কথায় বিশ্বাস করে ছেলেকে ইতালিতে পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতালিতে না পাঠিয়ে ছেলেকে কাতারে পাঠানো হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কাতারে যাওয়ার পর তার ছেলেকে মাফিয়াদের মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
সানোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘ছেলেকে ইতালিতে পাঠানোর আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যেন ন্যায়বিচার পাই।’
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সানোয়ার হাওলাদার বাদী হয়ে মাদারীপুরের মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। ওই মামলায় আবু সাহেব ঢালীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস