উপজেলা প্রতিনিধি
১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
নির্ধারিত ছুটির সময় তখনও হয়নি। এর মধ্যেই একদল শিক্ষার্থীকে বাড়ির পথে যেতে দেখে গাড়ি থামান নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতেই বেরিয়ে আসে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ।
শিক্ষার্থীরা ইউএনওকে জানায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রায়ই তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। এমনকি ক্লাস চলাকালে ঘুমানো, মুঠোফোনে ফেসবুক দেখা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগও করে তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ইউএনও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষককে পাননি। পরে মুঠোফোনে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন তিনি।
জানা গেছে, গত রোববার (১৬ আগস্ট) চরঈশ্বর ইউনিয়নের কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে যান ইউএনও রাসেল ইকবাল। দক্ষিণ রাজের হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি সড়ক পরিদর্শনে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়ির পথে দেখতে পান তিনি। পরে গাড়ি থামিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী ইউএনওকে জানায়, তাদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়া হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের অভিযোগ করে। তারা জানায়, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নিয়মিত আসেন না। উপস্থিত থাকলেও নিয়মিত ক্লাস নেন না। ক্লাস চলাকালে ঘুমানো ও মুঠোফোনে ফেসবুক ব্যবহারের অভিযোগও করে তারা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের অশোভন আচরণের অভিযোগও ওঠে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, তাদের সন্তানদের কাছ থেকে শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল রানী পাল বলেন, পরদিন থেকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তাই শিক্ষার্থীরা আগে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। তাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে ছুটি দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের ক্লাস ফাঁকি দেওয়া ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্তও হয়েছে। এরপরও তাদের আচরণে পরিবর্তন আসেনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে বের হয়েছিলেন। বিদ্যালয়ের পাশের সড়ক পরিদর্শনে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে আসে। তখন তাদের অভিযোগগুলো শোনেন। পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে কোনো শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস