জেলা প্রতিনিধি
১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
মায়ের কোলেই সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল ১৪ দিনের নবজাতকের। অথচ সেই মায়ের বিরুদ্ধেই উঠেছে সন্তান হত্যার অভিযোগ। শিশুর কান্নায় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছিল, এমন অভিযোগে তাকে পানিভর্তি প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নবজাতকের মা ফাতেমা বেগমকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভের ঘর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ছেলে। ফাতেমা বেগম উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে নবজাতক নিখোঁজ হলে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে তাকে মাথায় আঘাত করে কে বা কারা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে বলেন, জিনে নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।
পরে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রামের পানি থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, নবজাতক জ্বালাতন করত, ঘুমাতো না, অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত, সেজন্য প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ফেলে তাকে হত্যা করেন।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এমআর