জেলা প্রতিনিধি
১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ এএম
যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের এক শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিনের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এমএম কলেজের ‘চেতনায় চিরঞ্জীব’ ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা সচিবের অপসারণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবি জানান। বিক্ষোভে সংহতি জানিয়েছে ছাত্রদল এমএম কলেজ শাখা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোববার সকালে সার্টিফিকেটে বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের জন্য যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কক্ষে যান এমএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান। এ সময় তার গলায় হেডফোন দেখে সচিব তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহিদ হাসান সেজান বলেন, বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের জন্য আমি শিক্ষা বোর্ডে সচিবের কক্ষে গিয়েছিলাম। আমার গলায় একটি হেডফোন ছিল। সেটি দেখেই সচিব আমাকে গালাগাল করেন এবং মুখে চড় মারেন।
বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি বলেন, একজন সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা কেন একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ করবেন, তা আমরা জানতে চাই। একটি ঠুনকো বিষয়কে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দ্রুত শিক্ষা বোর্ডের সচিবকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হাসান ইমাম, এমএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, সাধারণ সম্পাদক আকিব আনোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহ-সভাপতি টিটোন তরফদারসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওই শিক্ষার্থী আমার কক্ষে এসেছিলেন। তখন তার শার্টের কয়েকটি বোতাম খোলা ছিল এবং গলায় হেডফোন ছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি তাকে ভদ্রভাবে আসতে বলেছি। তাকে মারধর করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।
প্রতিনিধি/এফএ