জেলা প্রতিনিধি
১৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
ক্যাকটাস শুধু একটি কাঁটাগাছ নয়; দিনের আলোয় নীরব থাকা এই উদ্ভিদ রাত নামলেই যেন বদলে যায়। কাঁটার আড়ালে ফুটে ওঠে তার অন্য এক রূপ, স্বল্পস্থায়ী, অথচ বিস্ময় জাগানো ফুলের ক্ষণিকের সৌন্দর্য।
আর এমনই এক বিরল এক ক্যাকটাসের দেখা মিলেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিদ্যাবিল টি এস্টেটে। কাঁটায় ভরা সেরিয়াস গোত্রের এই কলামার ক্যাকটাসের সবুজ কাণ্ডের বিভিন্ন অংশে ফুটেছে সবুজ-হলুদ ফুল। ব্যতিক্রমী এই ফুল স্থানীয়দের পাশাপাশি উদ্ভিদপ্রেমীদেরও কৌতূহলী করে তুলেছে।
ক্যাকটাস মানেই শুধু কাঁটায় ভরা গাছ এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও এই উদ্ভিদটি যেন তার ব্যতিক্রমী সৌন্দর্যের গল্প বলছে। খাড়া, স্তম্ভাকার ও মাংসল কাণ্ডের এই ক্যাকটাসের গায়ে রয়েছে স্বতন্ত্র পাঁজর, খাঁজ ও অসংখ্য কাঁটা। আর সেই কাঁটার ফাঁকেই ফুটেছে ছোট ছোট সবুজ-হলুদ ফুল।
উদ্ভিদবিদদের মতে, সেরিয়াস গোত্রের কলামার ক্যাকটাস দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ। এ ধরনের ক্যাকটাস মূলত রাতের বেলায় বড়, আকর্ষণীয় ও সুগন্ধযুক্ত ফুল ফোটানোর জন্য পরিচিত। সূর্যাস্তের পর ফুলের পাপড়ি ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করে। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই সেই সৌন্দর্য অনেকটা ম্লান হয়ে যায়; কোনো কোনো ফুল সকালেই শুকিয়ে যেতে পারে। ফলে পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হয় রাতের জন্য।
বিদ্যাবিল টি এস্টেট কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্যাকটাসটি ঠিক কবে কিংবা কে রোপণ করেছিলেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। কয়েক বছর আগে এটি রোপণ করা হয়ে থাকতে পারে। আবার উদ্যানপালনের মাধ্যমে অন্য কোনো স্থান থেকেও বাগানে এসে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ২০০ বছর আগে পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ক্যাকটাসের আগমন ঘটে। পরে বিভিন্ন অঞ্চলে শখের বাগান, উদ্যান ও সংগ্রহশালায় ছড়িয়ে পড়ে নানা প্রজাতির এই উদ্ভিদ। বিশ্বে ক্যাকটাসের বৈচিত্র্যও বেশ বিস্তৃত। ফনিমনসা ওপানসিওয়াডি গোত্রের এবং নাইট কুইন সেরেওয়াডি গোত্রের পরিচিত ফুল। এ গোত্রের ক্যারনেজিয়া জাইগেনশিয়া প্রায় ৬০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। আবার গোল্ডেন ব্যারেল বড় গোলাকৃতি ক্যাকটাস হিসেবে পরিচিত।
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিদ্যাবিলের উদ্ভিদটি সেরিয়াস গোত্রের কলামার ক্যাকটাস। এর পুরু ও খাড়া কাণ্ডে স্বতন্ত্র পাঁজর এবং অসংখ্য কাঁটা রয়েছে। এ ধরনের ক্যাকটাস রাতের বেলায় ফুল ফোটানোর জন্য পরিচিত। সূর্যাস্তের পর ফুল খুলতে শুরু করে এবং পরদিন সকালেই শুকিয়ে যেতে পারে। তাই পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুল দেখতে রাতে গাছটি দেখতে হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, দেশের বিভিন্ন পাহাড়-জঙ্গল, পার্ক ও বাগানে বিক্ষিপ্তভাবে নানা প্রজাতির ক্যাকটাস দেখা যায়। পানি স্বল্পতার পরিবেশে টিকে থাকার জন্য অনেক ক্যাকটাস তাদের মাংসল কাণ্ডে পানি জমিয়ে রাখে। পাতার পরিবর্তে কাণ্ডই সালোকসংশ্লেষণের প্রধান কাজ করে। কাণ্ডের কাঁটার পাশাপাশি রেশমের মতো মসৃণ রোমও থাকে, যেগুলোকে অরিয়ল বলা হয়। কিছু প্রজাতির ক্যাকটাসের ভেষজ গুণ, জলশোধন ও পোকা তাড়ানোর ক্ষমতাও রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, অনেকেই ক্যাকটাস মানেই কাঁটায় ভরা গাছ মনে করেন। কিন্তু এমন অনেক ক্যাকটাস রয়েছে, যেগুলো কাঁটার পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর ফুলও ধরে। বিশ্বে প্রায় ১ হাজার ৮০০ এবং বাংলাদেশে প্রায় ৪৬ প্রজাতির ক্যাকটাস রয়েছে। ড্রাগন ফলও ক্যাকটাস পরিবারের উদ্ভিদ। পরিবেশগত ও ওষধি দিক থেকেও ক্যাকটাসের গুরুত্ব রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস