Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে গাছ কাটার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয় ও নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবন এলাকায় থাকা ছয়টি মূল্যবান গাছ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুসরণ না করেই কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে কাটা কাঠ বিক্রির উদ্দেশ্যে শহরের উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবনের ভেতরে ও ভবনের পাশঘেঁষে থাকা চারটি আম ও কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের বড় বড় টুকরো বাসভবনের প্রবেশমুখে স্তূপ করে রাখা রয়েছে। অন্যদিকে, গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ের দেয়ালঘেঁষে থাকা একটি ঝাউ ও একটি অর্জুন গাছও গোড়া থেকে কাটা অবস্থায় দেখা যায়। কাটা অংশের গোড়ার কিছু জায়গা পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়িচালক ইকবাল ও ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমনসহ কয়েকজনের যোগসাজশে গাছগুলো কাটা হয়েছে। কাটা গাছের কাঠ ট্রাকে করে উজানীপাড়ার একটি করাতকলে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কাটা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, ঝাউ, অর্জুন, আম ও কাঁঠাল। প্রতিটি গাছের কাটা অংশের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ১০ ফুট। করাতকলের শ্রমিকদের দাবি, সেখানে ১০০ ফুটের বেশি কাঠ মজুত করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে গাছগুলোর ডালপালা পরিষ্কারের কথা বলা হলেও পরে কয়েকটি গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলা হয়। তবে গাছ কাটার বিষয়ে কোনো অনুমোদনপত্র বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিসরের গাছ কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। সরকারি গাছ কর্তন, অপসারণ ও নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন ছয়টি গাছ কাটার আগে যথাযথ অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউ গুলশান এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, শুরুতে ডালপালা কাটতে দেখেছি। কিন্তু কখন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, তা দেখতে পাইনি। গাছের কাঠের ট্রাক কখন বের করে নিয়ে গেছে, সেটিও বুঝতে পারিনি। বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।

গণপূর্ত বিভাগের নিরাপত্তাকর্মী ফোরকান বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি তিনি দেখেননি। কাটা কাঠ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তার জানা নেই।

bb22c58c-ac27-4fe0-a435-b87a28dbd866

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কাটা হয়েছে। তার দাবি, এ কাজে ভাউচারের দায়িত্বে থাকা সুমন ও গাড়িচালক ইকবাল জড়িত ছিলেন।

তবে গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায়। তিনি বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। গাছের ডালপালা কাটতে দিয়েছিলাম। কিন্তু কে গাছগুলো কেটে ফেলেছে, তা আমি জানি না। যারা এ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনলাম যে গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছে। বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে জানাবেন বলেও জানান তিনি।

প্রতিনিধি/টিবি