জেলা প্রতিনিধি
১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত গাইবান্ধার শ্রমিক খোকন মিয়ার (২৬) পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এ স্বামীকে হারিয়ে শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী শাপলা বেগমের (২২)। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
নিহত খোকন মিয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিসমত হলদিয়া গ্রামের রানা মিয়ার ছেলে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দুপুর ১২টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় জাহাজের একটি গ্যাস সিলিন্ডার কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। এতে খোকনসহ কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হয়েছেন।
স্বজনদের দাবি, সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অসহায় এই মা তার শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের সামর্থ্যবানরা পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে স্বামীর শোক কাটিয়ে শিশুটিকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে পাবেন ওই নারী।
স্ত্রী শাপলা বেগম জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। প্রথম দিকে স্বামীর মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়নি। পরে খবর পেয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু পথে জানতে পারেন, মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই দাফন সম্পন্ন হয়।
শাপলার অভিযোগ, তার দেড় বছরের শিশুসন্তানকেও বাবার শেষ চেহারা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাকে ও তার সন্তানকে অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে শাপলা বেগম আরও বলেন, এই ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার আর কোনো চলার পথ নেই। সরকার ও কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আকুল আবেদন, আমার ও আমার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।
সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মন্ডল বলেন, খোকন মিয়া একজন নম্র ভদ্র ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি খুবই অসহায় হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তার স্ত্রী-সন্তানকে পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
প্রতিনিধি/ এজে