Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নড়াইলে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ, ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

জেলা প্রতিনিধি

১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

নড়াইলের লোহাগড়ায় অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাজিম উদ্দিন দেওয়ান (৭১) নামের এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করে একটি ঘরে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যাংকের চেকের পাতা দাবি করেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার লক্ষ্মীপাশা এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে নাজিম উদ্দিন দেওয়ান বলেন, গত বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে লোহাগড়া উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলে করে বের হওয়ার সময় নড়াইল সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান মনি (৫৬), মিরাজ শেখ (৫৮), ইমরান (৪৫) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন তাকে টানাহেঁচড়া ও মারধর করে রাস্তার পাশে একটি ঘরে নিয়ে যান।

নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, পরে তার ছেলে সৌরভ দেওয়ান ও আত্মীয় হাবিবুল ইসলামের কাছে মুঠোফোনে পাঁচ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও ব্যাংকের চেকের পাতা দাবি করা হয়। এ সময় তার মোটরসাইকেলের চাবি ও মুঠোফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।

এ ছাড়া তিনটি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও দুটি অলিখিত ডেমিতে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাজিম উদ্দিন বলেন, তার ছেলে সৌরভ বিষয়টি লোহাগড়া থানায় জানালে উপপরিদর্শক (এসআই) কবিরুল ইসলাম মণ্ডলসহ পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্তরা মোটরসাইকেলের চাবি ও মুঠোফোন ফেরত দিলেও স্বাক্ষর নেওয়া তিনটি স্ট্যাম্প ও দুটি ডেমি ফেরত দেয়নি।

এ কারণে ওই কাগজপত্র ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা বিভ্রান্তিকর নথি তৈরি করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নাজিম উদ্দিন। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

নাজিম উদ্দিনের পরিবারের দাবি, তার ছেলে সৌরভকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে মনিরুজ্জামান মনিকে প্রায় পাঁচ মাস আগে সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে গত ১৪ জুলাই আরও দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়। দুই দফায় পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার পরও সৌরভকে বিদেশে পাঠানো হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের আরও অভিযোগ, গত ২৭ জুলাই রাত নয়টার দিকে মনিরুজ্জামান মনি ও তার সহযোগীরা নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট লোহাগড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

তবে অভিযুক্ত ইমরানসহ অন্যরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নাজিম উদ্দিনকে অপহরণসহ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নন

লোহাগড়া থানার এসআই কবিরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, টাকা-পয়সা পাওনা নিয়ে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরোধ রয়েছে। ঘটনার দিন এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। তবে সরেজমিনে গিয়ে নাজিম উদ্দিনকে আটকে রাখার বিষয়টি তারা দেখতে পাননি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস