Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় কর্মব্যস্ত হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল

জেলা প্রতিনিধি

১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫০ এএম

হবিগঞ্জ শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে শিল্পাঞ্চল।  ফলে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে দল বেঁধে শ্রমিকরা ফিরছেন কর্মস্থলে। কারখানা চালু করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারাও।

গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে এখনো গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘রাত (শুক্রবার দিবাগত রাত) থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।  শনিবার সকাল থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।  তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আর যদি কোনো ধরনের কোনো সমস্যা না হয় তাহলে আশা করছি, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জ জেলায় শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। ২০ দিন ধরে সংকট থাকলেও সরবরাহ ছিল সামান্য।

কিন্তু বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পুরোপুরিই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।  এতে জেলার ১৭১টি শিল্প কারখানার অধিকাংশগুলোতেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। যারফলে কর্মহীন হয়ে পড়েন দেড় লাখো শ্রমিকও।  

কারখানা বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিনই কোম্পানিগুলোকে লোকসান গুণতে হচ্ছিল। যার অধিকাংশই রফতানি আয়।  আর একের পর এক বাতিল হচ্ছিল কোম্পানিগুলোর বৈদেশিক অর্ডারও।

তবে গ্যাস কর্তৃপক্ষ শিল্প সংশ্লিষ্টদের বলছিলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে। সে অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

এসএম স্পিনিং এর মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, ‘রাত (শুক্রবার দিবাগত রাত) আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। আর শনিবার সকাল ৬টায় স্বাভাবিক হয়।’

তিনি বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকেই আমরা কারখানা চালু করতে পেরেছি। জালালাবাদ গ্যাসও আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে গ্যাস সরবরাহ ভালো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মিল যদি বন্ধ থাকে আমাদের পেরেশানি, দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে- এটিই কামনা করি।’

স্কয়ার ডেনিমের লি. এর মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন বলেন,  ‘(শুক্রবার) রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ কিছুটা শুরু হয়। কিন্তু আমরা পুরোপুরি পেয়েছি শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায়। ’

তিনি বলেন, ‘গ্যাস চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেশিন চালু করা যায় না। গ্যাস সরবরাহ স্টেবল হওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে জেনারেটর চালু করেছি। মিল চালু করেছি। সবাইকে প্রচণ্ড ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে।’

কোম্পানির শ্রমিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমাদের মধ্যে একটা উদ্বেগ ছিল যে, কারখানা যদি বেশিদিন বন্ধ থাকে তাহলে আমাদের চাকরি থাকবে না। আমরা চলবো কী করে। মালিক কতদিন লস করে আমাদের বেতন দিয়ে চালাবেন।’

তিনি বলেন, ‘শনিবার থেকে আমরা কাজে ফিরতে পেরেছি। কারখানা আবার চালু হয়েছে। খুবই আনন্দ লাগছে।’

আরেক শ্রমিক মাসুক মিয়া বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় উদ্বেগ ছিল।  এখন আমরা কাজে ফিরতে পেরে খুবই খুশি লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা কাজ করি তাদের বেকার সময় কাটানোতো অনেক কষ্টের।’

শ্রমিক রাহেলা আক্তার বলেন, ‘বেশিদিন কারখানা বন্ধ থাকলে এক সময় দেখা যেত আমাদের চাকরি চলে যেত। তাহলে আমরা চলতাম কীভাবে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চলতো কী দিয়ে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘মালিক কতদিন নিজে লোকসান করে আমাদের বেতন দিয়ে চালাতেন। মালিকের আয় হলে তো আমাদের বেতন দেবেন।’

প্রতিনিধি/এএম