জেলা প্রতিনিধি
১৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের দিঘিরপাড় গ্রামে ভাতিজার দায়ের কোপে কলিম উল্লাহ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল ৫টার দিকে কলিম উল্লাহ'র বড় মেয়ে রুনা বেগম (১৮) নিজ ঘরে একা ছিলেন। এ সময় তাঁর আপন চাচাতো ভাই জুবের আহমদ (১৮) ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
রুনার চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী রাজিয়া বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে জুবের আহমদকে আটক করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের দিন নির্ধারণ করা হয়। পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে জুবেরকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জুবের আহমদের বাবা সয়ফুল্লাহ (৬০) পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় তাঁর ছেলের বিয়ে ঠিক করেন। গত শুক্রবার রাতে জুবেরের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এদিকে, স্থানীয় সালিশে বিচার না পাওয়ার অভিযোগে কলিম উল্লাহ শনিবার দুপুরে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল এসআই নাঈমুলকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন।
শনিবার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পরপরই কলিম উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। জুবের আহমদ ও তাঁর বাবা সয়ফুল্লাহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালান। এ সময় জুবের হাতে থাকা দা দিয়ে কলিম উল্লাহ'র গলার বাম পাশে কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল জানান, কলিম উল্লাহ হত্যার ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সয়ফুল্লাহ'র ছেলে আমির উদ্দিনকে (২৭) আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/ এজে